চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য, সংগীত, মানবতা ও শিল্পচেতনার দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডাকনাম ছিল “রবি” এবং তিনি “ভানুসিংহ ঠাকুর” ছদ্মনামে সাহিত্যচর্চা করতেন। ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জন্ম। অন্যদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ডাকনাম ছিল “দুখু মিয়া”। ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি নজরুল ছিলেন সৈনিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকর্মী ও সাংবাদিক। আর রবীন্দ্রনাথ ছিলেন শিক্ষাবিদ, দার্শনিক, সুরস্রষ্টা ও সমাজচিন্তক।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যে প্রথম নোবেল বিজয়ী। তাঁর রচিত “গীতাঞ্জলি” বিশ্বসাহিত্যে অনন্য মর্যাদা লাভ করে। তিনি শুধু কবি নন, মানবতার এক চিরন্তন কণ্ঠস্বর। অন্যদিকে নজরুল ছিলেন সাম্য, দ্রোহ ও মানবমুক্তির কবি। তাঁর কবিতা ও গান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ষাট বছর বয়সের পরে চিত্রকলার জগতে প্রবেশ করেন। জীবনের শেষ সময়ে তিনি দুই হাজারেরও বেশি ছবি আঁকেন। তাঁর ছবিতে মানুষের মুখাবয়ব, কাল্পনিক প্রাণী, প্রকৃতি ও ভাবনার গভীর প্রকাশ দেখা যায়। রঙ ও রেখার সাহসী ব্যবহারে তাঁর চিত্রকর্ম বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি শিল্পচর্চার এই অসাধারণ সাধনা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।আমি, চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি একাধিকবার এঁকেছি এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি সুন্দর হস্তলিপির মাধ্যমে নির্মাণ করেছি। মুখ দিয়ে ছবি আঁকার বিষয়টি নিয়ে যমুনা টেলিভিশন আমার জীবনের উপর প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছে। এছাড়া মাছরাঙা টেলিভিশনের “রাঙা সকাল” অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমন্ত্রণ পেয়ে জীবনের গল্প বলার সুযোগ হয়েছিল। তবে সেই সময় এই মহান গুণীজনদের নিয়ে মনের সব অনুভূতি প্রকাশ করতে পারিনি। ভবিষ্যতে আবার সুযোগ পেলে তাঁদের আদর্শ, মানবতা ও শিল্পসাধনার কথা আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে চাই।আমি শিশুদের নিয়ে কাজ করি এবং শিক্ষার্থীদের এই গুণীজনদের ছবি আঁকা ও জীবনী পড়ার প্রতি উৎসাহিত করি। তাঁদের জীবনদর্শন থেকেই আমি লেখালেখির অনুপ্রেরণা পাই। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো গুণে বিশেষ। তাই কাউকে ছোট করা বা বিভেদ সৃষ্টি করা কখনোই শিল্প-সাহিত্যের শিক্ষা হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল মানবতা, ভালোবাসা ও সাম্যের যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেটিই আমাদের পথচলার শক্তি হওয়া উচিত। তাঁদের স্মৃতি ও আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করেই আমি শিল্পচর্চা ও লেখালেখির পথে এগিয়ে যেতে চাই।