লেখকঃ রকি আক্তার
একজন মানুষের জীবনে অনেকগুলো ধাপ থাকে, প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অগণিত আবেগ। এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে পদার্পণ করার সময় পূর্ববর্তী ধাপের প্রতি জন্ম নেয় গভীর মায়া।
আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছিল আমাদের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেই বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো স্মৃতির বন্ধন। আর চাকরিজীবনের সূচনাও হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান থেকেই। শিশুশিক্ষার মহৎ ব্রত নিয়ে পথচলা শুরু করি এখানে। শুধু একজন শিক্ষক হিসেবেই নয়, এলাকার কন্যা হিসেবে, অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে কোমলমতি শিশুদের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আমাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি হতে হয়েছে। বিদায়ের সেই মুহূর্ত সহজ ছিল না। আগের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে আমাকে দেখতে চলে আসে। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারিনা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। গতকাল এক শিক্ষার্থী হাত ধরে বলল— “প্লিজ ম্যাম, আজকে আমাদের স্কুলে চলে আসেন।” বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। কিছু বলতে পারিনি। আমার নীরবতা তাদের চোখে জল এনে দিল।
ভাবছি, তারা কি অনুভব করতে পেরেছিল আমার চোখের জল লুকানোর সেই কষ্ট? ইচ্ছে থাকলেও তাদের মতো অবাধে প্রকাশ করতে পারিনি।
আমার জীবনের বড় আবেগের জায়গা এই বিদ্যালয়, এই শিক্ষার্থীরা।
ভালো থেকো তোমরা, ভালো থেকো আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান।
দেখা হবে কখনো কারণে, কখনো বা অকারণে।
সবশেষে দোয়া চাই, যাতে নতুন কর্মস্থলেও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি।