মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডিমলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ সংস্কার (টিআর) তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে উপজেলা ও জেলার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের নেতৃত্বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিমলা অটোচালক শ্রমিক সংগঠনটি ২০২৫ সালে নিবন্ধনবিহীনভাবে কার্যক্রম শুরু করলে সংগঠনের আহ্বায়ক আশরাফুল আলম সুমনকে সরকারি বরাদ্দের আশ্বাস দেন এনসিপি নীলফামারী জেলা সমন্বয়ক কমিটির সদস্য রাশেদুজ্জামান রাশেদ ও উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী শাকিল প্রধান। পরবর্তীতে শ্রমিক সংগঠনের নামে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও সংগঠনের নেতৃত্ব দাবি করছে, তারা এ বিষয়ে কিছু জানতেন না কিংবা কোনো নথিতে স্বাক্ষরও করেননি। বরং বরাদ্দের টাকা থেকে কেবল ১২টি চেয়ার, একটি সিলিং ফ্যান ও একটি কাঠের টেবিল সরবরাহ করা হয়।
শ্রমিক সংগঠনের আহ্বায়ক আশরাফুল আলম সুমন গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা কোথাও স্বাক্ষর দিইনি, অথচ আমাদের নামে টাকা উঠানো হিয়েছে। টাকা কিভাবে ব্যয় হলো আমরা জানি না।
অন্যদিকে শাকিল প্রধান দাবি করেন, তিনি সংগঠনের গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অফিসের প্রয়োজনীয় কাজে টাকা ব্যয়ি করেছেন। তবে এ বিষয়ে সরাসরি প্রমাণ দেখাতে পারেননি। আর রাশেদুজ্জামান রাশেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে—ডাঙ্গারহাট অটোচালক শ্রমিক সংগঠনের আহ্বায়ক আলম হোসেন একইভাবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। একইসঙ্গে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নীলফামারী জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব পরিচয়ে রাশেদুজ্জামান রাশেদের ভাই জাফর হোসেন জাকির নিজেকে বালাপাড়া ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে আরেকটি বরাদ্দ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন। কিন্তু এই বরাদ্দকৃত অর্থের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম এলাকায় পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করছে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “যদি সরকারি বরাদ্দের প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয় তবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আমরা সরেজমিনে তদন্ত করব। অনিয়ম প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবে