লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
সবচেয়ে সস্তা জনমত গঠনের পথ হলো ধর্মীয় ধোঁকা! ধর্ম পালন অনেক কঠিন। যে কোন ধর্মের লোক হবে মানবিক, সম্পদ লিপ্সা বিহীন, লাভ লালসা নারী গতর তাকে সৃষ্টিকর্তা কে ভুলাতে পারবেনা ! সব ধর্মের এক কথা মানবতা মানবতা। হাটতে গেলে পিপড়াটা পায়ের নিচে না পিষি সতর্কতা হচ্ছে ধর্ম। আমরা ধর্ম পালন করি লেবাসে, মনে প্রানে ইবলিশের ভাই। অর্থ-বিত্তের মোহ নাই এমন কোন পুরাহিত পাদ্রী মোল্লা মৌলভী শায়েখ মুফতি মাওলানা পাবেন না। মাওলানা কে দেখেছি স্ত্রী কে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিতে, মায়ের অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ী থেকে বিতাড়িত করতে, হজ্ব করা লোককে দেখেছি বোনের দেহব্যবসা মেনে নিতে, সামান্য স্বার্থে একটা পদ বা একটু সামাজিক ক্ষমতা পেতে অনৈতিক কাজ মেনে চলতে! এসব ঘটনা শহরের না সূদুর গ্রামে যেখানকার লোকের আল্লাহ ভীতি হওয়ার কথা শহরের লোক থেকে দশ গুন বেশী!
প্রিয় পাঠক, আমার বিষয় বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় “নালন্দা” বিশ্ববিদ্যালয় যা ৭ম দশকে ভারতের বিহারে তৈরি হয়েছিলো দেড় কিলোমিটার জায়গা নিয়ে! যার শুরুতে ই ছাত্র সংখ্যা ছিলো দশ হাজার। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হিন্দু রাজা হর্ষবর্ধন! একটা লাইব্রেরি ছিলো যেখানে কয়েক লাখ বই ছিলো! বিনা বেতনে শিক্ষা ছিলো। যেখানে প্রথম বছর কম্বায়িং কোর্সে ছিলো নৈতিকতা মানতা মনুষ্যত্ব শিক্ষা!
কমপক্ষে ৩০ টা দেশের শিক্ষার্থী ছিলো যারা ছিলো হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃষ্টান বাহাই ইহুদি নারী-পুরুষের সমন্নয়!
বখতিয়ার খিলজি নামক একজন সোকল্ড মুসলমান এই বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করে দেন এবং লাইব্রেরী আগুন লাগায় জ্বালিয়ে দেন। তিনি ১২০৩ সালে বাংলা আক্রমণ করেন এবং গৌড় আক্রমণে রাজা “লক্ষ্মণ সেন” পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। খিলজি তিনদিন ধরে সোনা-দানা অর্থ লুন্ঠন করে সেখান থেকে ফিরে আসেন, এটা কি বাংলা বিজয় হলো? কিন্তু তিনি তকমা পেয়ে গলেন “বাংলা মুসলিম বিজয় বাই বখতিয়ার খিলজি”, আমার অগ্রজ কবি যিনি প্রেসিডেন্ট এরশাদের কবিতা লিখে দিতেন শোনা যায়, সেই আলমাহমুদ সাহেব তো
ইতিহাস ভূগোল না পড়েই লিখে ফেললেন এক কাব্য ” বখতিয়ারের ঘোড়া”! মজার কথা বখতিয়ার মাত্র ১৭ জন সৈন্য নিয়ে লক্ষ্মণ সেন কে বিনা প্রতিরোধে তাড়াতে পারলেন, আরো মজার কথা বলা হয়, বখতিয়ার বাংলা জয় করলেন, মুসলিম ঝান্ডা বাংলায় উড়ালেন তা হলে লক্ষ্মণ সেন বিক্রমপুর ফিরে আরো কিছু বছর কোন বাংলা শাসন করলেন! বখতিয়ার তিব্বত আক্রমণ করে ফিরলে নিজ লোকদের দ্বারা হত্যা হন, আবার দুঃখজনক হলে-ও সত্য, কবি আলমাহমুদ না খেয়ে বস্তিতে বাস পরে গ্রামে ফিরেও বিনা চিকিৎসায় না খেয়ে মৃত্যু বরন করেন! ভাই ব্রাদার সন্তান কেউ আপন না, দিন পেলে অকৃতা ও নতুন গল্প ফাঁদে তার এখানে পৌঁছানোর ভন্ড ইতিহাস আর শ্রাতারা তা চোখ বুঝে মেনে নেয় কারন এসব মানুষ ও চতুর্মাত্রিক জ্ঞানী নয়, নিজের ভিতর self advocacy বিবেক নাই! আলমাহমুদ ছয়তলা বাড়ী বিক্রি করে ছেলেদের বিদেশ পাঠিয়েছিলেন নিজের ও সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ কিনতে, তারা আর বাবা-মার খোঁজ নেয় নাই।
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন। মন পবিত্র করেন, কুরআন সহ যার যার ধর্মগ্রন্থের তর্জমা শোনেন! দিক নির্দেশনা আপনার ঈশ্বর ভগবান আল্লাহ দিয়ে রেখেছেন।