• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সিংগাইরে মোবাইল কোর্টে মাটিকাটায় ব্যবহৃত এস্কেভেটর অকার্যকর সিংগাইরে এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হঠাৎ পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন শেষ চিঠি- কলমেঃ রোজিনা খাতুন লোহাগাড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২৬ এর উদ্বোধন করলেন ডাঃ ইকবাল হোসাইন লোহাগাড়ায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন বিশ্বনাথে দৌলতপুর ইউ/পির জনপ্রতিনিধির সাথে মত বিনিময় করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে স্বদেশে আসলেন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন সেলিম নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কটে হত্যা এসএসসি পরীক্ষা শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের ‘প্রতিদিনের জগন্নাথপুর’ পরিবারের অভিনন্দন

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ধূসর (ওএসডি)কৃত পরিচালক ডা.সাইফুল দ্বায়িত্ব পেলেন সৈয়দ নজরুল মেডিকেল হাসপাতালের

Reporter Name / ৩৭৯ Time View
Update : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 

মোঃ মাহ্ফুজুল হক খান (জিকু) জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি,নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রাইভেট ক্লিনিক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকাসহ নানা অভিযোগে বিতর্কিত ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদ লীগের (ওএসডি)কৃত ধুসর সাবেক সিভিল সার্জন ডা.সাইফুল ইসলাম’কে আবার পূণরায় কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ অভিযোগ রয়েছে চলতি বছরের ৩ মার্চ কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন থাকাবস্থায় তাকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) করা হয়েছিল। একই ব্যক্তিকে কিশোরগঞ্জের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,যা স্থানীয়দের কাছে রহস্যজনক ও ক্ষোভের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব মোছাঃ-নজীদা শারমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে (ওএসডি) হওয়া কিশোরগঞ্জের সাবেক সিভিল সার্জন ডা.সাইফুল ইসলামকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়োগ কে ঘিরে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন যে ব্যক্তিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে (ওএসডি) করা হয়েছিল, তাকে আবার কিসের জোরে এত বড় দায়িত্বে বসানো হলো?

ডা.সাইফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন থাকার সময় শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুমোদন বিহীন ক্লিনিক চালু রাখা সহ লাইসেন্স নবায়নের অবৈধ লেনদেন, চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম সহ নানা অভিযোগ সে সময়ও উঠেছিল তার নামে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন পরিচালক ডা.সাইফুল ইসলামের যোগদান কে কেন্দ্র করে পুরোনো সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন আগে তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্থানীয়রা হাসপাতালের ভেতর থেকে একদল দালাল কে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘মেডিকো’নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওই দালাল চক্র রোগীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে দালালরা নিজেদের হাসপাতালের নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর বাবু রবিন্দ্রনাথ চৌধুরী বলেন,যার বিরুদ্ধে অভিযোগ,সে যেই হোক আবারও তাকে একই এলাকায় দায়িত্ব উচিত না।

জেলার সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি বাবু স্বপন কুমার বর্মন বলেন,আমরা সবসময় এসব বিষয়ে তৎপর থাকি।স্বাস্থ্যখাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতীতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে আবারও দায়িত্ব দেওয়া মোটেই কাম্য নয়। আমরা সবসময়ই সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতাদের সচেতন করার চেষ্টা করি,কীভাবে সঠিকভাবে সেবা পাওয়া যায় এবং কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে সেই সেবা দেওয়া উচিত।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চরত পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সম্বনয়ক আবু হানিফ বলেন,পতিত স্বৈরাচারী সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন ডা. সাইফুল ইসলাম। সে সময় তাকে ওএসডি করা হয়েছিল। অথচ সেই একই ব্যক্তিকে পুনরায় মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানীর শামিল।

কিশোরগঞ্জে সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি আওয়ামীপন্থী একটি চক্রকে নিয়ে ব্যাপক লুটপাট ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এখন আবার তাকে কিশোরগঞ্জে পদায়নের মধ্য দিয়ে সেই দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠী নতুন করে সক্রিয় হয়ে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি বাড়াবে, এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে

স্থানীয়রা বলছে,এভাবে বিতর্কিত ও অভিযোগে জর্জরিত একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে আরও বঞ্চিত হবে। কিশোরগঞ্জের মানুষ চায় যোগ্য, সৎ ও নিরপেক্ষ নেতৃত্ব যেখানে দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনো স্থান নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd