মোঃ আল আমিন, হোসেনপুর প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা-এ আগাম বর্ষণের পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর বোরো ধান। কাটার অপেক্ষায় থাকা পাকা ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, খালের ওপর অবৈধ বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় এই বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
যে পানি মানুষের জীবন বাঁচায়, সেই পানিই আজ কেড়ে নিয়েছে শত শত কৃষকের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। সবুজে ঘেরা সোনালি ধানের মাঠ এখন পরিণত হয়েছে নিঃশব্দ জলরাশিতে। সেই পানির দিকে তাকিয়ে কৃষকের চোখে ভাসছে অসহায়ত্ব আর বুকভরা হাহাকার।
এই চিত্র পানান বিল এলাকায়। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঘরে উঠত সোনালি ফসল। কিন্তু চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরুতেই টানা বর্ষণে শত শত একর পাকা ধান তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এক বছরের শ্রম, ঘাম আর আশা মুহূর্তেই ভেসে গেছে পানির স্রোতে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়—এই বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে মানুষের অবহেলাও। পানান বিলের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে পানি প্রবেশের পথ থাকলেও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বারই খালি খাল-এর ওপর মাছ ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন বাঁধ ও ফিশারি। প্রভাবশালী মহলের এসব অবৈধ বাঁধের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এই পানান বিল ঘিরে রয়েছে ডাংরি, দক্ষিণ পানান, সৈয়দপুর, গাংগাটিয়া লাখুহাটিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ সদর ও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা-এর অসংখ্য কৃষকের জমিও এই বিলে রয়েছে।
শুধু হোসেনপুর উপজেলাতেই দুই শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আশপাশের উপজেলাগুলো মিলিয়ে ক্ষতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কয়েকশত পরিবারে।
এখন কৃষকদের চোখে শুধু অনিশ্চয়তা—কীভাবে তারা ঘুরে দাঁড়াবে, কীভাবে চলবে তাদের পরিবার।
তাদের একটাই দাবি—দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের ওপর নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।