মো: বায়েজিদ বোস্তামী, বিশেষ প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ:
মাত্র ২০ টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ এলাকায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। নিহত অটোগাড়ি চালক বিপ্লব মিয়ার (২৪) হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি-ফাঁসির দাবিতে এ কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে আনুমানিক ৪টার সময় বাজিতপুর বাজারের বাঁশমহল এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত ও ঘটনার বিবরণ: নিহত বিপ্লব মিয়া (২৪) উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নের রাহেলা সরকার বাড়ীর বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন অটোগাড়ি চালক ছিলেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার পশ্চিম রাহেলা বাড়ীর বাসিন্দা ও অটোগাড়ি চালক মোঃ দিপু মিয়ার (২৪) সঙ্গে মাত্র ২০ টাকা চাঁদা দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় একটি ভাঙা রাস্তা মেরামতের জন্য বিপ্লব মিয়া অন্যান্য চালকদের নিকট থেকে ২০ টাকা করে সংগ্রহ করছিলেন। কিন্তু দিপু মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২:৩০টার দিকে বাজিতপুর বাজার বাঁশমহল এলাকায় দিপু মিয়া বিপ্লবকে মারধর করে। পরে একই দিন বিকেল ৩টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সশস্ত্র লোকজন বিপ্লব মিয়ার অটোগাড়ির গতিরোধ করে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং লোহার রড, বল্লম, লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলা ও বাদী: এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোঃ মাহিদুল ইসলাম (৩১) বাদী হয়ে ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাজিতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তদের তালিকা: মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মোঃ দিপু মিয়া (২৪)-সহ মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন-
মহাসীন মিয়া (৪০), মোজাম্মেল মিয়া (৩৪), ইনু মিয়া (৩৬), নাজিম উদ্দিন (৩২), সাজিদ মিয়া (২৩), আনজু মিয়া (২৮), সাহু মিয়া (৪২), আকাশ মিয়া (২৩), মবিন মিয়া (৩১), হারুন মিয়া (২৬) ও মনির মিয়া (২৪)।
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও অনেকে আসামি রয়েছে উল্লেখ করেন।
সাক্ষীগণ: ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-
শাহীন মিয়া (৩৭), রেজু মিয়া (৪০), রোকন মিয়া (৪৫), ছানজিল মিয়া (২০) ও রাকিব মিয়া (২৬)-সহ আরও কয়েকজন।
মানববন্ধনে বক্তব্য: মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “তুচ্ছ ২০ টাকার বিরোধে একজন নিরীহ যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা দ্রুত সময়ে বিচার ও সকল দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি।” যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা দ্বিতীয় বার করতে সাহস না পায়।
নিহতের পরিবারের সদস্য ছেলে ইউসুফ (৮), মেয়ে তানিসা(৩) শিশু সন্তানকে সাথে নিয়ে স্ত্রী তানজিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। আমি এর দ্রুত বিচার চাই-খুনিদের ফাঁসি চাই।” একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সন্তানদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল্লাহ বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত আব্দুল মমিন ও সিদ্দিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বক্তব্যে বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
সমাজের সচেতন মহলের দাবি হত্যায় সংশ্লিষ্ট সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বাস্তবায়ন হোক।