এস এম রকিবুল হাসান
নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের এক কোণে নিঃশব্দে বেঁচে আছেন শত বছর বয়সী হামেদা বেওয়া। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, ঝাপসা চোখ, তবুও থেমে নেই তার বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম।
এক সময়ের কর্মচঞ্চল এই নারী আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন এক নির্মম বাস্তবতার সামনে। তার রয়েছে এক ছেলে ও তিন মেয়ে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এই বয়সেও তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সাহায্য চাইতে হয় নিজের দু’মুঠো খাবারের জন্য।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, শত বছরের এই বৃদ্ধাকে নিজের খাবার নিজেকেই রান্না করে খেতে হয়। কাঁপা হাতে চুলা জ্বালানো, ভাত রান্না করা, সবকিছুই যেন তার নিত্যদিনের সংগ্রাম। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই, নেই সন্তানের স্নেহময় স্পর্শ কিংবা প্রয়োজনীয় যত্ন।
শুধু তাই নয়, খাস জমিতে ভাঙাচোরা মাটির ঘরেই তার বসবাস। ঘরের চালার টিনের অধিকাংশই ফুটো হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলেই ভিজে যায় ঘরের বেশ কিছু অংশ। যেকোনো সময় মাটির দেয়াল ধসে পড়ার ঝুঁকিতেও দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।
জানা গেছে, হামেদা বেওয়ার ছেলে সেকেন্দার একজন দিনমজুর। নিজের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে, ফলে মায়ের দেখভাল করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গ্রামবাসীর কেউ কেউ মাঝে মাঝে সহানুভূতির হাত বাড়ালেও তা তার জীবনযুদ্ধের জন্য যথেষ্ট নয়। প্রতিটি দিন তার কাছে যেন এক নতুন লড়াই, যেখানে বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তার ঘরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। হাতপাখা দিয়ে কোনোমতে স্বস্তি খোঁজেন তিনি। রাত নামলে জ্বালাতে হয় পুরোনো দিনের হারিকেন, সেই ক্ষীণ আলোতেই সারতে হয় রাতের খাবার।
হামেদার এই করুণ জীবনচিত্র আমাদের সমাজের কাছে এক গভীর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়,সন্তান থাকা সত্ত্বেও কেন একজন মা এভাবে অবহেলিত? কোথায় আমাদের মানবিকতা, কোথায় পারিবারিক বন্ধন?
এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানো এখন শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নৈতিক কর্তব্যও। সামান্য সহানুভূতি ও সহযোগিতাই হয়তো জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হামেদা বেওয়ার জীবনে এনে দিতে পারে কিছুটা স্বস্তি ও শান্তি।