মোঃ আল আমিন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার উত্তর সুরাটি গ্রামে ১শ একর জমির প্রায় ৪ কোটি টাকার ফসল তলিয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পানের বরজ, মাছের ফিশারী, পোল্ট্রি ফার্ম সহ বহু ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছে এবং সেখানকার ২০/২৫ টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পডছে। বৃষ্টি থেমে যাওযার পরও ঐ জমি থেকে নামছে না পানি। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ফসলি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থেকে কচুরিপনা দানাবেঁধে একাকার হয়ে আছে। ফলে প্রায় ২ কোটি টাকার পানের বরজ পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক হযরত মিযা, মতি মিয়া, আজম মিয়া, মজলু মিয়া, মাহন মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তাদের ১০ একর জমিতে পানের বরজ জলাবদ্ধতায় সর্ম্পূন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২ কোটি টাকার লোকশান হয়েছে। তারা এখন দিশেহারা। অন্যদিকে পানিতে ডুবে বাছির মিয়া, আলমগীর মিয়া, খোকন মিয়া, মজলু ও আরমান মিয়ার ২০ একর জমিতে থাকা ফিশারী সমূহের মাছ বের হয়ে যাওয়ায় তারা প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হযছেন। মারাত্মক জলাবদ্ধতায় অর্ধশত লোক পানিবন্দী অবস্থায় আছেন।
এছাড়াও ভোক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৭০ একর ফসলি জমিতে ৩/৪ ফুট পানি থাকায় আমন ধান লাগানোর শেষ সময়ে তারা আমন চাষ করতে পারছেন না। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে আমন চাষের প্রস্তুতি নিয়েও জমিতে অতিরিক্ত পানির কারণে আমন রোপণ করতে পারছেন না। এতে ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে অনাহারে থাকার চিন্তায় চিন্তিত কৃষকগণ। কৃষক মজলু মিয়া জানান, প্রায় ১শ বছর ধরে এ এলাকার পানি একটি কালভার্টের মাধ্যমে নিষ্কাশন হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে একজন লোক কার্লভাটের মুখের জমি ক্রয় করে মাটি কেটে উঁচু করে ফেলায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য রতন মিয়া এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে ইউএনও স্থানীয় সিদলা ইউপিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বললেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এলাকাবাসী দ্রুত সময়ে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ বিষযয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাজাহান কবির বলেন, জলাবদ্ধতা বিষয়ে আমি অবগত নই, তবে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলোাপ করবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। খুব দ্রুত পানি নিস্কাশনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। তাছাড়া কৃষকের ক্ষতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।