লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
কবিগুরু দাবদাহ বৈশাখে জন্মে ছিলেন, তাই সত্যি তিনি খর রৌদ্রের “রবি” ছিলেন! আলোকিত করেছেন সারাবিশ্বকে তার ক্ষুরধার কলমের লেখনী তে! তিনি বাংলা সাহিত্যের মুরব্বি ছিলেন, অভিভাবক ছিলেন মহামানব ছিলেন! সহচর ছিলেন নজরুল। তিনি নজরুল কে তার “বসন্ত গীতিনাট্য” উৎসর্গ করেছিলেন! নজরুলের পরবর্তী বাংলা সাহিত্য সহোদর যারা ছিলেন, শরৎ, বঙ্কিম , বনফুল, জীবনানন্দ, সুকুমার, সত্যজিৎ, প্রমথ চৌঃ, অন্নপূর্ণা দেবী, সৈয়দ মুজতবা, মীর মোশাররফ, নীলা মজুমদার, উপেন্দ্র কিশোর, সুনীল, জসিমউদদীন, বুদ্ধদেব, অচিন্তকুমার আরো অনেকে, সবার নাম মনে পড়ছে না —
আজ বিশ্বকবির ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী, তিনি ১৮৬১ সালে ২৫ শে বৈশাখ জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটা শতাব্দী, চেতনা, ভাষা সাহিত্য গীত দর্শন ইতিহাস ভূগোল মানবতাবাদী মানুষ যার রচনা আজও মানুষ কে উদ্বুদ্ধ করে, তিনি কবিতা কাব্য সাহিত্য প্রবন্ধ নাটক নৃত্য নাট্য, ছবি এঁকেছেন আড়াই হাজারের উপরে যা ছিলো “রেখাও বর্নের মেলবন্ধন! তার ছবি দেখে ইউরোপীয় শিল্পীরা আশ্চর্য হয়েছেন।
১৯১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পান একজন প্রথম এশিয়ান।
রবীন্দ্রনাথের জীবন কষ্টে ভরা। বড় মেয়ে বেলাকে হারিয়ে তিনি দিশাহারা হয়ে গিয়েছিলেন, মৃণালিনী মানে
রবীন্দ্রনাথের সহধর্মিণী “ভবতারিণী” ও যৌবনে চলে যান! ছোট মেয়ে মীরার বিয়েটা ছিলো রবীন্দ্রনাথের একক সিদ্ধান্তে যা ছিলো একদম ভুল! জামাতা “নগেন” ছিলেন বদ্ধ উন্মাদ, তাকে বিলাত পাঠানো ছিলো মস্ত ভুল! সে কৃষি বিষয়ে গ্রাজুয়েশন নিতে পারে নাই বরং ফিরে এসে রোজ মীরাকে মারধর করতো টাকা নিতে বাবার কাছ থেকে! কোথায় কোন লেখকের লেখায় পড়েছি,”নগেন” রবীন্দ্রনাথের সামনে সিগারেট টানতো এমন কি টাকা না দিলে কবির লেখার টেবিলে পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানতো —
কবি নিজেই ভগবানের কাছে মেয়ে মীরাকে ওপারে তুলে নিতে প্রার্থনা করেছিলেন! ভগবান ডাক শুনেছিলেন!
মীরা অসুস্থ শুনে গাড়ীতে ছুটছেন নগেন্দ্রনাথের বাড়ীর দিকে, পথে জানতে পারেন, মীরা না ফেরার দেশে চলে গেছে, তিনি ঐ পথ থেকই ফিরে আসেন মেয়ের মরা মুখ না দেখেই !
রবীন্দ্রনাথ ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হয়ে আসেনএবং কার্জন হলে বক্তৃতা করেন।
১৯৩৬ সালে রবীন্দ্রনাথ কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিলিট উপাধি দেয়, ১৯৪০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও তাকে ডিলিট উপধি দেয়। তাকে ইংরেজরা “নাইট” উপধি দেয় কিন্ত কংগ্রেস নেতা ডঃ মানিক, অমৃতসর, পাঞ্জাব কে গ্রেফতারের প্রতিবাদে জানি ওয়ালাবাগ স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ সভায় ইংরেজ লেঃ কঃ ডায়ার সমস্ত গেট বন্ধ করে মেশিন গানে স্টেডিয়ামে উপস্থিত সব জনতা হত্যা করে এবং এই হত্যার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ তার “নাইট” উপধি প্রত্যাখান করেন। তিনি ডায়ার কে সরাসরি কৈফিয়ত চেয়েছিলেন এবং বড় লাটের কাছে নাইট উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন!
রবীন্দ্রনাথ শেষ দিকে বোধ হয় একজন আর্জেন্টিনার কবি “ভিক্টোরিয়ার” ডাকে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, তাকে
‘পুরবী’ কাব্য খানি উৎস্বর্গ করেন এবং নাম রাখেন “বিজয়া”!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালবাসেন।
আবার বাংলা সাহিত্যের অভিভাবক রবীন্দ্রনাথ, বাংলার শেখ মুজিব, অখন্ড বাংলার নেতাজি সুভাষ এর নাম রেডিও টিভিতে বন্ধ না হয়, দেশ/রাজ্য যে কেউ শাসন করুন as you can convince the peoples by your party manifesto!