আকিক শাহরিয়ার, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ জেলাধীন জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের কিশোরী নিখোঁজের ৪ ঘন্টা পর ডোবা থেকে ফারিহা আক্তার নামের কিশোরী শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। নিহতের পরিবারের অভিযোগ হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, মৃত্যূর ঘটনাটি প্রাথমিক ভাবে রহস্যজনক মনে করছে পুলিশ। গভীর তদন্ত চলমান আছে। ময়না তদন্তের পর মৃত্যূর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান।
৯ জুন সোমবার পরিবারের সাথে রাতের খাবার খেয়ে দাদির সাথে নিজ ঘরের মেজেতে মাদুর বিছিয়ে ঘুমিয়ে ছিলো দাদী ও শিশুটি। তখন রাত আনুমানিক তিনটা বাজে, দাদি ফাতেমা বেগম হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গে তখন দেখেন,ঘরের একমাত্র লাইট নিভানো ও দরজা খোলা, বিছানায় (নাতনী) ফারিহা নেই । তিনি ফারিহার বাবা মাকে ডাকাডাকি করে জানালে তারাও আচমকা হয়ে তরি গরি করে উঠেন। উঠে নিখোঁজের বিষয় জানালে ফারিয়াকে খোঁজতে নামেন। সাথে প্রতিবেশী সহ গ্রামবাসী সবাই ছিলেন।
পরে ১০ জুন মঙ্গলবার ভোরে রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি পরিত্যাক্ত ডোবায় থেকে বিবস্ত্র, অর্ধ-নিমজ্জিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
জামালগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহের বির্বস্ত্র অবস্থা দেখে প্রতিবেদন করেছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মোছাম্মৎ সাহান আরা মুজিবুর রহমান দম্পতির ২ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে ফারিহা আক্তার দ্বিতীয়। তিন সন্তান ও শাশুড়ি, জা সহ ৭ সদস্য নিয়ে ৮ হাত প্রস্ত ও ১২ হাত লম্বা টিনশেডের ঘরে বসত করে সুখেই দিন কাটছিলো তাদের কিন্তু সুখ কপালে সইলনা।
০৯ জুন সোমবার রাতে যে জায়গায় বসে খাবার খেয়ে মাদুরে ঘুমিয়ে ছিলো ফারিহা।আজ সেখানে মেয়ের প্রাণহীন দেহ সেখানে পড়ে আছে। দলেদলে লোকজন ও স্বজনরা বাড়িতে আসছেন শেষ বারের মতো ফারিহাকে দেখতে। সবার মুখে বিষাদের কালো ছায়া বিরাজ করছে।
ফারিহার মা বাবা ও স্বজনের কান্নার আহাজারিতে ভারী হয়ে পড়েছে সুরমা নদী ও জোয়ালভাঙ্গা হাওর বেস্টিত রামনগর গ্রামে।
ফরিহার মা,বাবা, স্বজন ও এলাকাবাসীর মনে ঘটনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন স্বজন ও এলাকাবাসী
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, প্রত্যেকটি মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ থাকে, এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। পুলিশ গভীর ভাবে ঘটনা তদন্ত করছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।