নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম বেসরকারী উন্নয়ন সঃস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) খিলগাও, ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত আই এস আই জিওপি প্রকল্পের আওতায় আই এস এইস সি উজ্জিবন ক্লাবের দ্বি-মাসিক সভা ৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল ৪ টায় সংগঠনের নিজস্ব মিলনায়তনে বিশিষ্ট সংস্কৃতজন ও উজ্জিবন ক্লাবের সভাপতি সুলতানা হায়াত ফওজিয়া (লিপি) এর সভাপতিত্বে ও মিসেস নাহিদা আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় ।
স্বাগত বক্তব্যে মিসেস নাহিদা আলম বলেন, নারীদের জন্য সমগ্রবিশ্বের দরজা খোলা, নিজ মেধা ও যোগ্যতায় নারীরা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা চাইলেই সমাজ উন্নয়নে ও সমাজ পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারি। তিনি আরো বলেন. ঘুনেধরা সমাজ পরিবর্তন করতে চাইলে সবার আগে নিজকে পরিবর্তন হতে হবে, নারীর প্রতি নারীকে সহনশীল হতে হবে নারীরা নারীদেরকে সম্মান করতে হবে, বিশেষ করে, বউ, শ্বাশুড়ি, ননদ একে অপরকে শ্রদ্ধা, মায়া-মমতায় আবদ্ধ করতে হবে। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞাতার কথা বর্ননা করে বলেন এক এক এলাকার সমস্যা একেক রকম, আমরা আইনী সহায়তাসহ অনেক মানবিক কাজ করেছি। রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর মাধ্যমে আমরা দারিদ্র বিমোচন ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি এতে সকলের অংশগ্রহন ও আন্তরিক সহযোগিতার জন্য রিক পরিবার কৃতজ্ঞ।
সভার সভাপতি লিপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি সত্তর দশকে বগুড়ায় খেলাঘরের মাধমে সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ মুলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ি যা এখনো অব্যাহত আছে। করোনা কালে মৃতদের গোসল করানো, অসহায়দের পাশে থাকা, দুঃস্থদের রেশনকার্ডের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে নিজেকে মানব কল্যাণে সম্পৃক্ত রেখেছি। নবীন প্রবীনরা যদি এক অপরের সুখ,দুঃখ ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করি তবে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরো বৃদ্ধি পাবে সমাজ হবে সুখ, শান্তি ও সম্মৃদ্ধির। অনেক নারী আমাদের সাথে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে সন্তানদের পড়ালেখা শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমরা সকলের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় পৃথিবীটাকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধকওে নতুন প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে যেতে চাই । রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) আমাদের পাশে ছিল বলেই আমরা অনেক কাজ করতে পেরেছি। এজন্য আমরা সকলেই রিকের কাছে কৃত্জ্ঞ সেই সাথে আমাদের পথচলার সারথী বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: হাফিজুর রহমান ময়না ভাই এর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি তিনি আজ উপস্থিত থাকলে তাঁর মতামত ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যশুনে আমরা অনেক উপকৃত হতাম ।
সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, মিসেস ইন্দ্রাজ তরফদার পপি বলেন আমরা অতীতে প্রবীনদের জন্য বয়স্কভাতা, চকিৎিসা ভাতা, রিলিফ ও র্কমসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলাম, ভবিষ্যতেও অসহায় গরীবদের জন্য চিকিৎসা ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক নারীনেত্রী, সমাজসেবিকা ও বিশিষ্ঠ কবি ফারহানা ইসলাম রিমা বলেন, মানব সেবার চাইতে মানসিক প্রশান্তির আর কিছুই নাই, মানব ও দেশসেবার সুযোগ আমি কখনো হাতছাড়া করিনা। আমি নিজেও ‘মানবিকা উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি সমাজ ও মানব কল্যাণ মুলক সংগঠন করেছিলাম, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কল্যাণে বিশেষ কিছু কাজ করেছিলাম। দুঃস্থ অসহায়দের পাশে থাকার চেষ্ঠা করেছি, বিশেষ করে প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করে আমি যে মানসিক প্রশান্তি পেয়েছি তা ভুলবার নয়। রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) মানব কল্যাণে ও সমাজ পরিবর্তনে যে বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করছে তাতে উদ্ভুদ্ধ হয়ে আমি সংগঠনের সভাপতি লিপি আপার আমন্ত্রণে রিকের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। আমি আমার শ্রম, মেধা, সামর্থ ও যোগ্যতা দিয়ে মানবতার কল্যাণে রিকের সাথে কাজ করতে চাই। রিমা আরো বলেন, আমাদের আভিবাবক হচ্ছেন বিশিষ্ঠ সমাজকর্মী মো: হাফিজুর রহমান ময়না ভাই। আজকের অনুষ্ঠানে তাঁর পরামর্শ ও পরিকল্পনা শুনতে পারলে আমরা উপকৃত হতাম কিন্তু ব্যাস্থতার জন্য হয়তো তিনি আজকের সভায় আসতে পারেননি। আমাদের আশা তিনি সংগঠনের সাথে থাকলে সমাজের জন্য অনেক কিছুই করতে পারবো।
গেস্টঅব অনার হিসেবে বিশিষ্ঠ নজরুল গবেষক ও দৈনিক নিরপেক্ষ এর জয়েন্ট এডিটর মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান বলেন, নবীন প্রবীনের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উপায় হচ্ছে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে নবীনদের কাছে তুলে ধরা। এতে নবীনরা সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে এবং প্রবীণরাও নিজেদের মূল্যবান অবদান রাখতে পারবেন। দ্বিতিয়ত প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং তাদের চাহিদা পূরণ করা প্রয়োজন। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য প্রবীণদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত উভয় প্রজন্ম একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহনশীল হতে হবে। এতে একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে সুবিধা হবে এবং সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে।
চতুর্থত নবীনরা প্রবীণদের পাশে থাকলে তারা নিশ্চিন্ত মনে কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে পারবে এবং তাদের জীবনের জটিলতাগুলো কমে আসবে।
পঞ্চমত নবীন প্রজন্মকে ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঠিক জ্ঞান দিতে হবে, যাতে তারা প্রবীণ প্রজন্মের মূল্যবান অবদান বুঝতে পারে এবং তা থেকে ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা নিতে পারে।
এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি হবে, যা সমাজকে আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত করবে। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মনিরা বেগম, সংগঠনের সম্মানিত সদস্য মিসেস রোজী ইসলাম, মো. সাঈদুল ইসলাম, আছমা সিদ্দিকী, মরিয়ম বেগম, নিলুফার ইয়াসমিন, কামরুন্নাহার, ফারনাসিদ্দিকী সুরাইয়া, সালেহা বেগম, শিলা ব্যানার্জী প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন নবীন-প্রবীণ আন্তঃপ্রজন্ম সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে সম্মান জানানো এবং তাদের প্রতি সম্মান ও যত্ন প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা জরুরি, যেখানে নবীনরা প্রবীণদের সহায়তা করতে পারে এবং উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়। এই সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রবীণদের নিরাপত্তা, সম্মান ও সুখ নিশ্চিত করা যায় এবং তরুণ প্রজন্ম তাদের অন্তর্দৃষ্টি ও নির্দেশিকা লাভ করে একটি সুসংহত ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।