লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
২০২৪ সালের ৭ ই জানুয়ারি বিগত সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো!
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আজপর্যন্ত জানা গেছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে! মাশাল্লাহ ভালো কথা!
এতদিনে মার্কিন থেকে কেউ উড়ে এসে আন্তর্জাতিক আদালতে হাসিনার বিচারের আলোচনা করে গেলেন, জাতিসংঘ ও সেই মতামতের সাথে একত্বা ঘোষণা করলো, হাসিনা দের আওয়ামীলীগ কার্যক্রম বন্ধ হলো, বাংলাদেশ বিশেষ ট্রাইব্যালে হাসিনার বিচার চলছে! জামাত উকিল “জনাব তাজুল ইসলাম” সাহেব বিচার আদালতে তুলছেন সবই ঠিকঠাকমতো চলছিলো!
হঠাৎ বর্তমান সরকারের মুখপাত্র “পিনাকী” দাদা সুর পরিবর্তন করলেন কেন? আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে খ্যাত আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারিয়ান যিনি ২০১৪ থেকে দেশ-বিদেশের পার্লামেন্টে পার্লামেন্টারি আদব কায়দা শিখান সেই আওয়ামীলীগের ভদ্র সন্তানটাকে গ্রেফতার করে গোটা ছয় খুনের মামলা ঢুকিয়ে দিয়ে আবার কি মনে করে জামিন দিলেন, কেন -ইবা তার বাসায় তিন ইউরোপীয় দেশের (নরওয়ে সুইডেন ডেনমার্ক) রাষ্ট্রদূত ছুটে গেলেন? কেন ই বা আমাদের সরকার ঐ রাষ্ট্রদূতদের তলব করলেন না বা ফ্যাসিষ্ট সরকারের বিশ্বস্ত সহচর “সাবের হোসেন চৌধুরী” কে গ্রেফতার করলেন না?
প্রিয় পাঠক, ১৯৯৬ সালে ঢাকা ৬ আসনে তিনবার নির্বাচনে হ্যাট্রিক ফেল করা পল্টু ভাইকে পরিবর্তনের জন্য আমরা এক গাদা লোক ছুটে গেছিলাম “সাবের হোসেন চৌধুরী কে” নমিনেশন দিতে! শেখ হাসিনা কোন কথা বলতে দেন নাই, শুধু বলেছিলেন, “ইহা ও আছে আমার মনে!” “সাবের ভাই” নমিনেশন পেলেন, মন্ত্রী হলেন ” সেই থেকে “সাবের ভাই” দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দায়িত্বে।
তিনি কোন “নোবেল বিজয়ী” নন কিন্তু সারা বিশ্বের লোক, তাকে চিনে, এমন কি দি গ্রেট রাশিয়ার “প্রেসিডেন্ট পূতিন” তাকে ব্যক্তিগত ভাবে স্নেহ করেন!
তার বাসায় বাংলাদেশের পরিবর্তন করার জন্য অলটারনেটিভ খুঁজতে ” পিটার হাস” সাহেব ও গেছেন! তার মানে তাকে প্রধানমন্ত্রী করা যায় এমন ধারনা বিদেশিরা পোষন করেন! এমন একটা যোগ্য লোককে গোটা ছয় খুনের মামলা দিয়ে কি সারা বিশ্বে আপনাদের আন্তর্জাতিক আদালত গ্রহন যোগ্যতা হারালো? আওয়ামী কার্যক্রম বন্ধ করেও ঘুমাতে পারছেন না কেন? আওয়ামী ছাড়া নির্বাচন দেশেবিদেশে গ্রহন যোগ্য হবে না তা বুঝলেন বড় দেরি করে! কেন নতুন দল NCP প্রধান “নাহিদ ইসলাম” উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন! তাদের পুকুর চুরি একদিন ফাঁস করবেন বলছেন, উপদেষ্টারা সেভ এক্সিট খুঁজছে বলছেন? সে-ও কি হাসিনার দালাল? কেন রিক্সা ওয়ালা, ভ্যান, বেবীট্যাক্সি, রোজকার লেবাররা বলছেন, আগেই ভালো ছিলাম!
কেন ২৬০০০ ভারতীয় চাকুরে খুঁজে জেলে পুরতে পারলেন না, কেন আদানির বিদ্যুৎ নিতে হচ্ছে, কেন ইলিশ মাছ আগের থেকে বেশী ভারতকে দেয়া হচ্ছে, আমাদের বাজারে ইলিশ ২২০০ টাকা কেজি, কলকাতা, ১০০০ টাকা! কেন আমাদের সীমান্ত অরক্ষিত, কেন আমাদের প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে, নিউইয়র্কে অপমানিত হন? কেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা বিদেশ মন্ত্রী দেখা করেন না? অথচ দিব্বি তারা ভারতের বিদেশ মন্ত্রী “জয় সংকরের” সাথে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী “মার্কো রুবিও দুই ঘন্টা আলাপ করেন! কেন জ্যাষ্ঠ সাংবাদিক “কামাল সাহেব” সব উপদেষ্টাদের পাসপোর্ট সিজ করতে বলেন এবং তাকে আদালতে আনার সাহস হয়না সরকারের? লন্ডন, নিউইয়র্ক যথাযথ মর্যাদা না পেয়ে আবার কেন বিরাট বহরে ” রোম” সফর! কোন দেশ যেমন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করছে না তেমনি বাংলাদেশের গ্রীন পাসপোর্ট পশ্চিমা কোন দেশের ভিসা পাওয়া জটিল থেকে জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে? কেন বাড়ছে না আমাদের “রিজার্ভ”? বিদেশে শ্রম বাজার কেন সংকুচিত হয়ে গেলো রাতারাতি? শিল্প কারখানা কত শতাংশ বন্ধ ঘোষণা হয়েছে?
প্রিয় পাঠক, আওয়ামী ছাড়া নির্বাচন দেশেবিদেশে গ্রহনযোগ্য হবে না যা এদেশের লেখক সাংবাদিকরা অনেক আগে বুঝে ফেলেছেন, সরকার এখনও সংবিধান সংশোধনের নামে সময় ক্ষেপণ করছেন কেন? ঐ সংবিধান ডঃ কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর সহ ১১ জন বাঘা আইনজ্ঞ ” মুজিবের” তত্বাবধানে তৈরি, ওখানে দাত বসাবার আইনজ্ঞ এখন কই?
যে বদনাম টা সাথে সাথে ফিরবে আজীবন, ১৭৫৭ সালে লর্ড ক্লাইভের হাতে দেশ তুলে দেয়ার মত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতের পুতুল কি হয়ে গেলো সুজলা সুফলা বাংলা দেশটা? আর কিছু না হোক, ভারত লাভবান হলো জাতিসংঘের স্হায়ী সদস্য করে নিলো এবং দশ বছর চেষ্টা করে যা অর্জন করা সম্ভব হয় নাই, সেই “ভেটো পাওয়ার” ভারত পেয়ে গেলো! আজ যদি চীন ভারত আমেরিকা যুদ্ধে লিপ্ত হয়, বাংলাদেশ হবে যুদ্ধ ময়দান, পরমাণু তেজস্ক্রিয় থেকে বাংলাদেশ রেহাই পাবে না কোন মতে! এই কি জুলাই বিপ্লব?
সব শেষে বলবো “রাজাকে রাজনীতি জানতে হয়, মিথ্যার উপর কোন দেশের জনগণ কে অল্পদিন বোকা বানানো গেলেও লম্বা দিন বোকা বানায় রাখা
যায় না! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বার্থ শেষ হলে ছুড়ে ফেলে অনেক দূরে! এমন খেলা তারা খেলেছে সারা বিশ্বে আশির দশক থেকে, আজ-ও চলছে — —-
আমেরিকা জাতিসংঘ সবাই বলছে আওয়ামীলীগ কে নির্বাচনে আনতে, আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী নিশ্চয় বলেছেন, ” No election under the present government, A L would participate in election under CARETAKER GOVERNMENT only !