মোঃ মাহ্ফুজুল হক খান (জিকু) জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে ও পৌর শহরে ঢাকের তালে তালে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা গতকাল বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেল থেকে শুরু করে প্রায় রাত ১০ টা পর্যন্ত পূজা বিসর্জ্জন কার্জক্রম চালানো হয়। কিশোরগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় পুকুর প্রামানিক এর নামকরনে তার মধ্যে অন্যতম,এই পুকুরের মধ্যে সবচাইতে বেশি পূজা মণ্ডপ বিসর্জিত হয়। কিশোরগঞ্জের সবচেয়ে বেশি পূজা মণ্ডপ তৈরি হয় বত্রিশ ৯ নং ওয়ার্ড পৌর এলাকায় বিশেষ করে নতুন পল্লী এলাকা নামক স্হানে। বিভিন্ন এলাকায় ও পুকুরে পূজা মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এই সময় উলুধ্বনি,ঢাকের বাদ্য,কাসর ঘন্টা আর ধুপ-ধোঁয়ার আরতিতে সেখানে এক ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর আগে শ্রী শ্রী জয়কালী মন্দীর,লোকনাথ মন্দীর,গোপীনাথ আখড়া ও ভাসমান মন্দির সহ আরও বিভিন্ন দুর্গার চরণে সিঁদুর ছোঁয়ানো ও হিন্দু নারীদের মধ্যে সিঁদুর খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে শ্রী,শ্রী,জয়কালী মন্দির ও আশপাশের এলাকায় হিন্দু পূণ্যার্থী ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিপুল লোকের সমাগম হয়। বিসর্জনের নিরাপত্তায় পুলিশ,আনছার,বিজিবি,গ্রাম পুলিশ,রেব ও সেনা সদস্যদের পাশাপাশি পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির নিজস্ব ভলান্টিয়াররাও দায়িত্ব পালন করেন। এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক মো. ফৌজিয়া খান,পুলিশ সুপার মো.হাসান চৌধুরী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ আহাম্মেদ জানান এবার আনসার সদস্য এবং পুলিশ সদস্যা প্রতিটা মন্দিরে খুব আন্তরিক ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক প্রতিকুল পরিবেশে তারা নিজেদের দায়িত্বে অবিচল ছিলেন। যার ফলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবার দুর্গাপূজা ছিল অনেক চ্যালেঞ্জিং। এই দুর্গাপূজা শুরুর আগেই অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এবার দুর্গাপূজা অনেক জাঁকজমকপূর্ণ ও শান্তি পূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে।শারদীয় দুর্গা উৎসবে সহযোগিতা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,বিএনপি,জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মিরা। তাই নির্ভিঘ্নে পুজা বির্সজন করতে পেরে অনেকেই খুশি।উল্লেখ্য,কিশোরগঞ্জ পৌর শহর সহ উপজেলায় এবার ৬১টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে।