• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সিংগাইরে মোবাইল কোর্টে মাটিকাটায় ব্যবহৃত ১টি এস্কেভেটর অকার্যকর ও মাটি পরিবহনের রাস্তা অপসারণ মাদ্রাসার সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর ১০ বছরের স্বপ্ন ধূলিসাৎ: পরীক্ষা দেওয়া হলো না ছামিয়ার গুণী চিত্রশিল্পীদের স্মরণে ২১এপ্রিল বিশেষ দিন হিসেবে ১১তম বছর পালন করে খুলনা আর্ট একাডেমি ডিমলায় ভুট্টা খেত থেকে পুলিশের পোশাকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য নীলফামারীতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ: ডিমলায় চালু ফুয়েল কার্ড, ৬ হাজারের বেশি উপকারভোগী জগন্নাথপুরে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন এর আয়োজনে হিফযুল কোরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন জগন্নাথপুরে পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুরে নবাগত ইউএনও ইসলাম উদ্দিনের যোগদান জগন্নাথপুরে নদীতে পানি বেড়েই চলেছে, দ্রুত বোরো ধান কর্তনের তাগিদ কবিতাঃ নিয়ামতপুরের কালো রাত

মাদ্রাসার সুপারের অবহেলায় শিক্ষার্থীর ১০ বছরের স্বপ্ন ধূলিসাৎ: পরীক্ষা দেওয়া হলো না ছামিয়ার

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

মোহাম্মদ সুজন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার, জগন্নাথপুর

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসি পোস্ট অফিসের আওতাধীন পীরের গাঁও সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার ও অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল ইসলামের চরম অবহেলায় অলিউর রহমানের মেয়ে ছামিয়া বেগমের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা আর হলো না। পরীক্ষার ফি ও প্রতিষ্ঠানের সকল পাওনা পরিশোধ করার পরও প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) না আসায় দীর্ঘ ১০ বছরের শিক্ষাজীবনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ছামিয়া বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মাদ্রাসার সকল পাওনা ও পরীক্ষার ফি আমি সময়মতো জমা দিয়েছি। কিন্তু পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলেও আমাকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। আজ আমার ১০ বছরের ক্যারিয়ার তারা ধ্বংস করে দিলো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। কেন আমার সাথে এমনটা করা হলো, আমি প্রশাসনের কাছে তার জবাব চাই।”

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রেণি শিক্ষক আব্দুল বাসিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি সংগ্রহ করে যথাযথভাবে সুপার নুরুল ইসলামকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সুপারের গাফিলতির কারণে ফরম পূরণ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগে ত্রুটি হওয়ায় ছামিয়ার প্রবেশপত্র আসেনি। অভিযোগ উঠেছে, একটি কুচক্রী মহল এই ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক আব্দুল বাসিতকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে শ্রেণি শিক্ষক আব্দুল বাসিত জানান, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং সকল শিক্ষার্থীর ফি অধ্যক্ষ মহোদয়কে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন কেন প্রবেশপত্র আসেনি, সেটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানই ভালো বলতে পারবেন। আমাকে এখানে অহেতুক দোষারোপ করার চেষ্টা চলছে।”

ছামিয়ার মা অভিযোগ করেন যে, এটি কেবল অবহেলা নয় বরং পরিকল্পিত প্রতিহিংসা। তিনি জানান, “আমি অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেই নির্বাচনের জের ধরে এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে আজ আমার মেয়ের ১০ বছরের স্বপ্ন তারা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।” তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার/অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এমনটা হয়েছে আমরা খতিয়ে দেখছি।” তবে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে তিনি ব্যর্থ হন।

এক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনস্বার্থে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd