মোঃ মাহফুজুর রহমান, ব্যুরো প্রধান খুলনা:
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক এস.এম. শামীমের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক সমাজ। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দৈনিক অনির্বাণ পত্রিকার দিঘলিয়া প্রতিনিধি এবং “খুলনার খবর”-এর বার্তা সম্পাদক এস.এম. শামীম তার সহযোগী রানা মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দিঘলিয়া উপজেলার চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছালে মোটরচালিত ভ্যানে অবস্থানরত উজ্জ্বল মোড়লের ছেলে উথান মোড়ল, যিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, হঠাৎ পেছন দিক থেকে রানা মোল্লার টি-শার্ট ধরে টান দেন।
এ সময় রানা মোল্লার সঙ্গে উথান মোড়লের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উথান মোড়ল সাংবাদিক শামীমের সামনে এসে মোটরসাইকেল না থামানোর কারণ জানতে চেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বোঝার আগেই তিনি শামীমের ওপর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত এক যুবক পেছন দিক থেকে শামীমকে চেপে ধরে রাখে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে উথান মোড়ল তার হাতে থাকা পাথর বা লোহার মতো শক্ত বস্তু দিয়ে শামীমের মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাথায় রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় শামীমের সঙ্গে থাকা সহযোগী রানা মোল্লার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত উথান মোড়ল ও রানা মোল্লা আত্মীয় (মামাতো-ফুফাতো ভাই) হওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলে নীরব ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত উথান মোড়ল ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ—এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও জেলার সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”