লেখকঃ মোঃ আছাদুল হক
দুচোখে তোমার অস্থির নীরবতা
আমার ভেতরের সব শব্দ থেমে যায়।
মনে হয়—এই নীরবতাই পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর উচ্চারণ।
চুলে তোমার গোলাপের সুবাস,
আমি ছুঁই না—তবু ছুঁয়ে যাই,
হাওয়ার ভিতর ভেসে থাকা
এক অদৃশ্য স্পর্শ হয়ে।
তোমার হাসি—রজনীগন্ধার মতো,নরম,ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে,আমার ক্লান্ত রাতগুলো
তোমার একটুখানি আলোয় ভোর হয়ে যায়।
ঠোঁটে ডালিয়া, লাল জবার আভা,আমি তাকিয়ে থাকি—
কিছু বলি না,কারণ সব কথা তখন অপ্রয়োজনীয় লাগে।
তুমি হাঁটলে—
মনে হয় টিউলিপ বাগানে হাওয়ার নাচন,
প্রতিটা পদক্ষেপে
আমার বুকের ভেতর অদৃশ্য ঝড় ওঠে।
তুমি যখন তাকাও—
ফসলের মাঠে হঠাৎ বাতাস নামে,সবুজ ঢেউ ওঠে,
আমি সেই ঢেউয়ের ভেতর ডুবে যাই নিঃশব্দে।
আমি-
তোমার ভেতর হারিয়ে যাওয়া
এক মরুভূমির পথহারা পথিক,
তৃষ্ণা নিয়েই বাঁচি,
তবু তোমাকেই খুঁজি প্রতিটা বালুকণায়।
আমার সকাল শুরু হয় তোমার কল্পনায়,সূর্য ওঠার আগেই তুমি এসে যাও,আর সন্ধ্যা নামলে—
তোমার ভাবনায় আকাশটা ধীরে ধীরে রঙ বদলায়।
ভালোবাসা হয়তো এমনই—
কিছু না বলেও সব বলা,
কাছাকাছি না থেকেও
একজনের ভেতর আরেকজনের
অসীম বাসা বাঁধা।