মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী
নীলফামারী জেলায় ২৩ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড এর মাধ্যেমে মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়,মাঠপর্যায়ে এর প্রত্যাশিত প্রভাব এখনো দৃশ্যমান হয়নি। বরং অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে গ্রাহক সংকটের চিত্রই চোখে পড়ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইনের যে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন জ্বালানি তেল পাম্প ঘুরে দেখা যায়,পাম্পগুলোতে গ্রাহকের উপস্থিতি খুবই কম। কোথাও কোথাও একেবারেই নেই বললেই চলে। ফলে ট্যাগ অফিসার ও পাম্পের কর্মচারীরা অনেকটা অলস সময় পার করছেন। পাম্পগুলোতে তেমন ব্যস্ততা না থাকায় কার্যক্রমও ধীরগতিতে চলছে।
ডিমলা উপজেলার আফতাব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত মাত্র ১০টি মোটরসাইকেল ফুয়েল কার্ড ব্যবহার করে তেল নিয়েছে।সেখানে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার মো. আমির বরহান জানান,ফুয়েল কার্ড চালু হলেও এখনো অনেক গ্রাহক এ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত নন। অনেকেই কার্ড সংগ্রহ করেননি, আবার কেউ কেউ ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় পাম্পে আসছেন না।
স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় অনেকেই বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, কোথা থেকে কার্ড নিতে হবে বা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।
এদিকে পাম্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ফুয়েল কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনা এবং অনিয়ম কমানো। তবে বাস্তবে গ্রাহক উপস্থিতি কম থাকায় এই উদ্যোগের সুফল এখনো পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। তারা মনে করছেন, পর্যাপ্ত জনসচেতনতা তৈরি এবং সহজ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, শুরুতে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ধীরে ধীরে মানুষ এই ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।এজন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
ডিমলা উপজেলায় ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উদ্যোগটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।