• শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কয়রায় যুবলীগ কর্মীর হামলায় বিএনপির তিন কর্মী আহত সুস্থ সমাজ গঠনে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকল্প নেই: হুইপ রকিবুল ইসলাম গল্প: সোনালী বিকেলের সেই মেয়ে বাজিতপুরে বিশ টাকার বিরোধে বিপ্লব হত্যা: হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন রূপের রানী’খ্যাত জাদুকাটা নদী এখন নৌপথের এক ভয়াবহ চাঁদাবাজির করিডোরে পরিণত হয়েছে নওগাঁয় চার হত্যাকান্ড, গ্রামবাসী মিলে করলেন কবর জিয়ারত শত বছরে অসহায় হামেদা, দ্বারে দ্বারে ঘুরেই চলছে জীবন সংগ্রাম সিংগাইরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাই গংদের আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু! আহত-১ নাজিরপুরের কৃতি সন্তান আলহাজ্ব মিজানুর রহমান দুলাল ভাইকে অভিনন্দন জানালেন জাতীয় মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মৃত্যু অনিবার্য, শ্বাশত

গল্প: সোনালী বিকেলের সেই মেয়ে

Reporter Name / ২০ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

লেখক: আরিয়ান খান হাবিল

সময় অনেক কিছু বদলে দেয়। রাস্তা, মানুষ, এমনকি শহরের পরিচিত দৃশ্যও ধীরে ধীরে অপরিচিত হয়ে ওঠে। কিন্তু কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলো সময়ের ভেতরেও মুছে যায় না। সেগুলো রয়ে যায় হৃদয়ে! একটা নরম আলো হয়ে, নিঃশব্দে বুকের কোণে ঝকঝকে আলো ছড়ায়।
অনেক বছর আগে একটি ছোট্ট শহরে এক মিষ্টি মেয়ের নাম ছিল “সাবিয়া সিদ্দিকা” । অনেকেই তাকে সাবিহা বলে ডাকতো, তাকে কেউ দেখলেই মনে হতো, এই মেয়েটার ভেতরে একটা নিঃশব্দ জগৎ লুকিয়ে আছে। খুব বেশি কথা বলত না, কিন্তু তার হাসি কোমল, শান্ত, আর তার কণ্ঠে ছিল এমন মধুরতা, যা শুনলে চারপাশের পরিবেশও নরম হয়ে যেত।
“সাবিহা” প্রায় প্রতিদিন বিকেলে বারান্দায় দাঁড়াত। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত দীর্ঘক্ষণ। দূরে কোথাও পাখি উড়ে যেত, বাতাসে পাতার নড়াচড়া শোনা যেত, আর সূর্যের আলো ধীরে ধীরে সোনালী রঙ ধারণ করত। সে শুধু প্রকৃতিকে দেখত না, নিজের ছোট ছোট অনুভূতিগুলোও খুঁজে পেত। আকাশের রঙ বদলানো, বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ, বাতাসের নরম স্পর্শ! সবই তার জীবনের ছোট ছোট আনন্দ।
পাড়ার মানুষ তাকে চিনত। কেউ সালাম দিলে সে মিষ্টি হেসে উত্তর দিত। কেউ হেসে কিছু কথা বললে তার কণ্ঠের কোমলতা কথাগুলো আরও সুন্দর করে তুলত। মনি খুব বেশি কথা বলত না, কিন্তু সে যেখানেই থাকত, নিঃশব্দে চারপাশকে উজ্জ্বল করে তুলত।
একদিন হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। আকাশ মেঘে ঢাকা, বাতাসে নীরবতা ভেসে আসছে। সাবিহা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল। ছাদে ফোঁটা পড়ছিল, পাতার মধ্যে বৃষ্টি খেলছিল। সে ধীরে ধীরে বলল, “বৃষ্টি পড়লে মনে হয় পৃথিবীটা একটু থেমে যায়।” তার কণ্ঠে ছিল সরলতা, মধুরতা, আর নিঃশব্দ আনন্দ।
“সাবিহা” শুধু প্রকৃতিকে নয়, নিজের অনুভূতিও খুব ভালো জানত। সে তার ডায়েরিতে লিখত, কখনও কাউকে না বলে। তার অনুভূতি ছোট্ট, নিঃশব্দ, কিন্তু গভীর। আকাশ দেখার সময়, গাছের নড়াচড়া লক্ষ্য করার সময়, মিষ্টি কণ্ঠে হেসে ওঠার মুহূর্তগুলো! সবই তার জীবনের সোনালী বিকেল।
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেল। সেই গাছগুলো বড় হয়ে গেছে বা কেটে ফেলা হয়েছে, রাস্তাগুলো নতুন রঙ পেয়েছে। কিন্তু সেই দিনের বাতাস, সেই নীরবতা, সেই সোনালী বিকেলের আলো! সবই হৃদয়ের ভেতর রয়ে গেছে।
সাবিহার একটা মিষ্টি হাসি, কোমল কণ্ঠ, আর নিঃশব্দ উপস্থিতি নিয়ে, তার স্মৃতিকে আজও জীবন্ত রাখে। তার নীরবতা, ছোট ছোট আনন্দ, চোখে ভাসমান সোনালী বিকেলের আলো, সবই এখনো নিঃশব্দে রয়ে গেছে।
অনেক বছর পরে মনে হয়, মানুষের জীবন সবচেয়ে সুন্দর হয় ছোট ছোট মুহূর্তেই। বড় কোনো ঘটনা না হলেও, এই নীরব, শান্ত, সোনালী দিনের স্মৃতি চিরকাল হৃদয়কে উজ্জ্বল রাখে।
যে দিনগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়, সেই দিনগুলোই সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আর সেই স্মৃতির ভেতর, বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা মিষ্টি মেয়ে! “সাবিহা” সবসময় নিঃশব্দে হাসে, তার কণ্ঠের মধুরতা, চোখের কোমলতা এবং সোনালী বিকেলের আলো নিয়ে।
সময়ের ভেতর অনেক কিছু হারিয়ে যায়, কিন্তু কিছু রয়ে যায়- নীরব স্মৃতি, একটি সোনালী অতীত, এবং সেই মেয়েটির অবিস্মরণীয় উপস্থিতি।
এভাবেই অতীতের বিকেলগুলো জীবন্ত থেকে যায়।
সাবিহার একটি সোনালী বিকেলের স্মৃতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd