লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
বিশাল এ-ই মহাজাগতিক ভূমন্ডলে সৃষ্টিকর্তার তৈরি কিছু অংশ ক্ষুদ্র মানুষের বিশেষ জ্ঞান প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিকরা আবিষ্কার করেছেন! পৃথিবীর ওজন ৬ ট্রিলিয়ন কেজি, সূর্যের আয়তন পৃথিবীর থেকে ১৩ লক্ষ গুন বেশী, সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ মিলিয়ন কিলোমিটার, পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার, পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্হান হিমালয় পর্ববত শ্রেনী, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার উঁচু , সবচেয়ে নীচু স্হান মারিয়ানা ট্রেন্স যা প্রায় ১১ কিলোমিটার গভীর — একটা হিমালয় পর্বত কে সহজে লুকিয়ে রাখতে পারে! হিমালয় পর্বত প্রতি বছর প্রায় ১ সেন্টিমিটার উচ্চতা বাড়ে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণী ছিলো ডায়নোসর যা প্রায় ২৪/২৫ কোটি বছর আগে এসেছিলো, বর্তমান সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি যা কয়েকটা ডায়নোসর সমান ইত্যাদি আবিষ্কার করেছেন আমাদের মহাজ্ঞানী বৈজ্ঞানিক গণ!
প্রিয় পাঠক, আমাদের মহাজ্ঞানী বৈজ্ঞানিক গণ অনেক অনেক এবং অনেক কিছু আবিষ্কার করে দিয়ে গেছেন, তাদের আবিষ্কৃত উড়োজাহাজ চড়ে হজ্ব করছি, গয়া কাশী যাচ্ছি আর তাদের নরকে পাঠাচ্ছি মসজিদ মন্দিরে গির্জায় যায়নি বলে — তাদের আবিষ্কার বিদ্যুৎ মোবাইল ট্রেন ঔষধ পরমাণু হাজার কিছু আমরা ব্যবহার করে বেঁচে আছি —–
সে যাইহোক, এত, এত কিছু আবিষ্কারের পরও আবিষ্কার করতে পারেন নাই, “একজন মানুষ কখন, কোথায়, কিভাবে মৃত্যু বরন করবে?”
আমরা এসব মস্তিষ্ক সঞ্চালন না করেই মানুষ কে স্বর্গ বেহেশতের সনদ বিতরন করছি আর একদল শিক্ষিত একাডেমিক সনদ সংগ্রহ করে ভালো চাকুরী করে গরীবের অর্থ চুরি করে বিলাসবহুল জীবন চালাচ্ছেন, বয়স পঞ্চাশ ষাট শত্তুর ঊর্ধে কিন্তু এখোনও তার সন্তান নাতিপুতিরা কিভাবে মোটরসাইকেল থেকে গাড়ী হেলিকপ্টার চড়ে জীবন কাটাবে তা জোগাড় গোছালে ব্যস্হ!
গতানুগতিক ধর্ম নামক কঠিন সূক্ষ্ম বিষয় দায়সারাভাবে পালন করে যাচ্ছেন! নারীকে ১০ গজ কালো কাপড়ে বন্দী করছেন যা হয় খোদ আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন নাই, মন্দির গীর্জায় যাচ্ছেন আর একগ্রুপ কেউ দুর্গার পায়ে বা কেউ যীশু মূর্তির নিচের সেজদায় লুটাচ্ছেন আর প্রতিবেশীর বাসস্হানের জমিটুকু দখলে নিচ্ছেন তো কেউ আস্ত একটা মুসলমান দেশ দখল করছেন, কেউ হিন্দু দেশ টায় অশান্তি সৃষ্টি করতে সিআইএ মোসাদ আইএসআইর মত গোয়েন্দা লাগিয়ে বসে আছেন!
এ-সব ধর্মধ্বজীরা জানেন না কখন কোথায় কিভাবে তার মৃত্যু হবে? এই একটা বিষয় ধর্মের নামে বিবাদ সৃষ্টিকারী লোকগুলো আবিষ্কার করার চেষ্টা না করে তারা অভিসম্পাত দিয়ে যাচ্ছেন, “বেটা আইনস্টাইন কেন আবিষ্কার করে যায় নাই, সেই কাফের নিউটন বা আলভা এডিসন বা গ্যালিলিও বা সক্রেটিস বা রাইট ব্রাদার্স বিমান আবিষ্কারের মত মৃত্যু কখন হবে একজন মানুষের তা আবিষ্কার কেন করে গেলো না? নিশ্চিত তারিখ টা জানলে তিনি বহুসংখ্যক বিবির সাথে “রাবণের” মত মৃত্যু বান হাতে নিয়ে সহস্র বছর আরামে কাটাতে পারতেন নিশ্চিতে। যা কিছু বৈজ্ঞানিক গণ আবিষ্কার করে দিয়ে যান নাই, তা সবকিছু তিনি বা তাহারা আল্লাহ ভগবান ঈশ্বর এর উপর ছেড়ে দিয়ে আপনাকে বুঝিয়ে দেবে তিনি (আল্লাহ /ঈশ্বর) ভালো বোঝেন! অথচ সৃষ্টি কর্তা প্রতিটি মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় আট হাজার ছয়শত কোটি নিউরন এবং সম পরিমান গ্লিয়াস দিয়েছেন প্রতিটি মানুষ কে চিন্তা,গবেষণা করার জন্য তার সৃষ্টি কে DISCOVER করে UTILITY বাড়ানোর জন্য!
কিছু নতুন INVENTION নয়, সৃষ্টি কর্তার দেয়া জিনিস আবিষ্কার করে ব্যবহার করতে। সব ধর্মের মহামানবেরা আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের যে-কোন জায়গায় যেয়ে ঈশ্বরের সৃষ্টি জানো, জ্ঞান বিজ্ঞান আহরণ করো!
মুসলমান মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আল আরাফের
সম্ভবত ১৭৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, তোমাকে দু’টো হাত দিয়েছি, তুমি কাজ করোনা, তোমাকে দু’টো চোখ, দু’টো কান দিয়েছি তুমি আমার সৃষ্টি দেখনা, শোন না, তোমাকে মস্তিষ্ক দিয়েছি তুমি চিন্তা করোনা?
যদি এগুলোর যথাযথ ব্যবহার না করো তা হলে জ্বীন ও ইনসানের উভয়ের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন, নিজে জানুন নতুন প্রজন্মকে জানান।
জানার শেখার, জ্ঞান, আই-কি, বুদ্ধি বিবে, বাড়াবার একমাত্র মাধ্যম — পড়া ও শোনা এবং দেখা! ঘুরে দেখুন সারাবিশ্ব যদি সামর্থ্য থাকে! জমানো টাকা চলে যায়, চলে যায় জমিদারি, পরিত্যক্ত হয় বিলাসবহুল বাসস্হান!