মোঃ মাহ্ফুজুল হক খান (জিকু) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ইতিমধ্যে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন জেলা বিএনপি’র বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম। তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলার বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে তার প্রতি ব্যাপক সমর্থন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চিত্র ইতিমধ্যে লক্ষ্যণীয়।
কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর—এই দুই উপজেলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মো.মাজহারুল ইসলাম দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিগত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্যাতন, মামলা, জেল-জুলুমের মধ্যেও তিনি জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখেছেন। তার এই ত্যাগ ও নিরলস কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এখন তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।
সদর উপজেলা: সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা একমত হয়েছেন যে মো.মাজহারুল ইসলাম’কে দলীয় প্রার্থী করা হলে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ক্লিন ইমেজকে তারা প্রধান শক্তি হিসেবে দেখছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি মো.শরিফুল ইসলাম নিশাদ জানান, মো.মাজহারুল ইসলামকে নিয়ে সদর উপজেলার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো দ্বিধাদন্ড নেই,সবাই তার জন্য কাজ করতে প্রস্তুত।
হোসেনপুর উপজেলা ঠিক একই ভাবে হোসেনপুর উপজেলাতে ও মো.মাজহারুল ইসলামের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন দলের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তার মতো পরীক্ষিত নেতাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। তারা মনে করেন, তার নেতৃত্বে দলীয় কোন্দল দূর হবে এবং সবাই এক ছাতার নিচে এসে নির্বাচনী প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়বে।
মনোনয়ন প্রত্যাশার কারণ:-
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫-এ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে মো. মাজহারুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক ভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন,দলের সংকটময় সময়ে যেকোনো কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। বর্তমানে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, ১৭ বছর ধরে জনগণের পাশে থেকে তিনি যে সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তাতে তিনি দলের মনোনয়নের যোগ্য দাবিদার।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মো.মাজহারুল ইসলামের প্রার্থিতা দলের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। সদর ও হোসেনপুরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তার পক্ষে যে ঐক্যের চিত্র দেখা যাচ্ছে,তা নির্বাচনী মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তৃণমূলের এই ঐক্যবদ্ধতাই প্রমাণ করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন পুনরুদ্ধারে মো.মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।