উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫ নং পালংখালী ইউনিয়নে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থ সংকট ও এনজিও সহযোগিতার অভাবে ইউনিয়নের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর অর্থায়নে BRAC ও Practical Action ইউনিয়নের বাজার ও জনবহুল এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ২০২০ সালে অর্থ সংকটের কারণে UNDP কার্যক্রম বন্ধ করলে, পরবর্তীতে Bangladesh Red Crescent Society (BDRCS)-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি করা হয়।
কিন্তু চলতি বছরের ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে BDRCSও অর্থ সংকট দেখিয়ে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ, বাজার কমিটি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি বাজার ও দোকানপাট থেকে ফি আদায়ের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করলেও, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মাত্র ১,০৫,৩৮০ টাকা ফি আদায় সম্ভব হয়েছে। এর বিপরীতে প্রতি মাসে কর্মীদের বেতন ও মজুরি বাবদ ব্যয় হয় ৩,৬৮,০০০ টাকা।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানায়, অক্টোবর মাসের পর আর এই ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছে। এছাড়া ক্যাম্পের বাইরে এক থেকে দেড় লাখ রোহিঙ্গা ভাড়া বাসায় অবস্থান করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, রোহিঙ্গা বরাদ্দের ২৫ শতাংশ অর্থ স্থানীয় উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা হলেও বাস্তবে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, ইউনিয়নের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চরম সংকটে। আধুনিক ট্রাক বা যন্ত্রপাতি নেই, বর্জ্য রাখার নির্দিষ্ট স্থান নেই এবং মাসের পর মাস রাস্তার পাশে বিষাক্ত বর্জ্য জমা থাকায় পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় কমিটি সতর্ক করেছেন, কার্যক্রম বন্ধ হলে অজ্ঞাত মহামারীর সম্ভাবনা রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আধুনিক বর্জ্য অপসারণ সরঞ্জাম ও ট্রাক ব্যবহার, নির্দিষ্ট বর্জ্য স্থান নির্ধারণ।
বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রয়োগ নীতি বাস্তবায়ন।স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ।