ঝুমা আক্তার:
এ কি কোনো নদী! জল নেই, ঢেউ নেই”—এমন প্রশ্নই আজ ঘুরে বেড়াচ্ছে কিশোরগঞ্জবাসীর মনে, যখন তারা তাকায় একসময়ের খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর দিকে।কিশোরগঞ্জের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল নরসুন্দা নদী। বর্ষা এলেই খরস্রোতা রূপে ভয়ংকর হয়ে উঠত এই নদী—তার স্রোত, তার বিস্তার, তার প্রাণচাঞ্চল্য ছিল এ অঞ্চলের প্রাণ।
কিন্তু আজ সেই নরসুন্দার দিকে তাকালে নদী বলে চেনার উপায় নেই। কোথাও শুকিয়ে যাওয়া বুকে ফসলের জমি, কোথাও কংক্রিটের স্থাপনা। দখল, দূষণ আর দুর্গন্ধে জর্জরিত এই নদী এখন কিশোরগঞ্জবাসীর দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক।
একসময়ের প্রবল স্রোতের এই নদী আজ শহরের বর্জ্য ফেলার প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বাসাবাড়ি, হোটেল, ক্লিনিক ও শপিং মলের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে নদীর বুকে। ফলে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে, নরসুন্দা আজ এক দুর্গন্ধময় নালায় রূপ নিয়েছে।
২০১২ সালে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।৩৫ কিলোমিটার পুনঃখনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ। খননের পাশাপাশি নদীর তীরে নির্মাণ করা হয় ওয়াকওয়ে, বসার স্থান ও নান্দনিক অবকাঠামো।
কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই শুরু হয় নতুন করে দখলের মহোৎসব। প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি এবং প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আবারও নরসুন্দাকে পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুয়েজগেট নির্মাণসহ নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তবে প্রশ্ন রয়ে যায়।অসংখ্য প্রতিশ্রুতির পরও কি নরসুন্দা ফিরে পাবে তার হারানো প্রাণ?
নাকি দখল আর দূষণের ভারে একদিন ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী নদী?
লেখক:
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়।