সাহেলা সার্মিন
ভোরের আকাশে থালার মতো লাল চাঁদটা তখনো জ্বলজ্বল করে জ্বলছিল। সাথী ঘরের সব কাজ সেরে গায়ে বোরকাটা জড়িয়ে লম্বা পা বাড়ালো স্টেশনের দিকে তাদের গার্মেণ্টস এর প্রথম গাড়িটা চলে গেছে, দ্বিতীয় গাড়ি মিস হলে পাবলিক বাসে যেতে হবে। লেটও হয়ে যাবে অনেক।
স্টেশনে দাঁড়িয়ে লম্বা করে দম নিয়ে নিজেকে হালকা করছিলো সাথী। তার নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসছিল।গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। লেট হলে অশ্রাব্য ভাষায় গালি শুনতে হবে তাকে। বেতন কেটে নেওয়ার হুমকি দেবে। গায়ে ব্যাডটাস করবে সুপারভাইজার ,খুবই বিশ্রি ব্যপার।
যাক, গাড়িটা এসে গেছে। একটি সিটে বসে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো সাথী। এবার ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারবো। জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই পাড় হয়ে একটি চাকরি পেয়েছি।
এস এস সি পাস করে টাকার অভাবে আর পড়তে পারেনি সে। সৎ মায়ের সংসার,সারাদিন তাকে কাজের বুয়ার মতো খাটতে হয়েছে। বাবার টাকার অভাব ছিলো না, কিন্তু সাথীর অধিকার ছিলো না সেই টাকায়। অযত্ন, অবহেলা আর অবজ্ঞায় তিলে তিলে আধমরা জীবন ছিলো সাথীর। শেষে মেরুদণ্ডহীন এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে হাফ ছেড়েছিল তার বাবা।
কয়েকটা সিট খালি ছিলো, সেখানে জানালার পাশে একটা সিটে বসলো। চারিদিকেই হন্তদন্ত অবস্থা। ওর মতো আরো কতো মেয়ে সংসার সামলিয়ে দুমুঠো অন্নের জন্য, একটু ভালোভাবে বাঁচার জন্য গার্মেণ্টসএ কাজ করে।
দক্ষিণাকাশে সোনার থালার মতো চাঁদটা এখনো দখল করে আছে। সূর্য মামা একটু একটু করে আলো ছড়াচ্ছে। তার জমজমাট আলোকিত রাজ্য থেকে এখনই বিতারিত হবে চাঁদ। মানুষও ঠিক তেমন, যার পকেটে টঙ্কার ঝঙ্কার, সে গরীব আত্মীয় স্বজনদের জঞ্জাল ভেবে দূরে সরিয়ে রাখে নির্দ্বিধায়। সাথীও আজ জঞ্জালের ভাগে পড়েছে। ভাগ্যদোষে তাই তাকে গার্মেণ্টস এ কাজ করতে হচ্ছে।