আজ পয়লা বৈশাখ
বাংলা বছরের প্রথম দিন।
চারিদিকে কেমন কলরব,
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে সবাই
যেন কেনাকাটায় ব্যস্ত কি যেন খুঁজছে সবাই ।
বৈশাখ এলেই মনে পড়ে অতীত জীবনের হারিয়ে যাওয়া অনেক স্মৃতি। মনে পড়ে আমার মায়ের কথাগুলি। মাগো, আজও মনে পড়ে তোমার কথাগুলি। জানি না কোন নক্ষত্রের দেশে বাস কর তুমি!কেমন আছো তুমি? কি করছো মা ?
আমি তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি এই ঘর থেকে ওই ঘর কোথাও নেই তুমি! আমিতো ক্লান্ত হয়ে গেলাম মা। আমি তো পাচ্ছি না। তুমি তো এই দিনে শাড়ির আঁচলে আমাকে জড়িয়ে ধরতে, মাথায় নরম হাতের আঙ্গুল দিয়ে হাত রেখে শান্তনার বাণী শোনাতে,আজ কই তুমি ? তোমার শাড়ির আঁচলের ভাঁজে যে স্নেহ মাখা মিষ্টি সুবাস লুকিয়ে রাখতে, সে সুবাস আমি তো পাই না মাগো, যে হাত আমার মাথায় বুলিয়ে দিতে। কই তুমি মা ? তোমাকে তো পাই না। দুহাতে মুখটা ধরে কপালে যে চুমু দিতে, আজ কোথায় তুমি মা ?
বৈশাখ মাসে প্রথম দিনে কাছে ডেকে নিয়ে তোমার আঁচল দিয়ে আমার মুখটা ঢেকে দিতে,আজ কোথায় তুমি ?
মা তুমি আমাকে বলতে পহেলা বৈশাখ আজ তোর জন্মদিন, প্রতি বছর এই দিনে দেখিস কত লোক তোকে আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়াও দিবে। এই দিনে বাবা আসতেন ব্যাগ ভরে সদাই নিয়ে,কোথায় সে বাবা আমার ? মা বাবার সাইকেল থেকে ব্যাগ নামিয়ে ঘরে নিয়ে যেতেন তারপর বিশাল আকৃতি থালায় ভরে সবাইকে দিতেন আমরা খেতাম আর ভাবতাম বৈশাখ মানেই খাওয়া দাওয়া। বৈশাখ মানেই আনন্দ!
কোথায় সে আয়োজন মা ? লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছো ? আমিও আসছি মা তোমার কাছে। দেখো তোমায় আমি ঠিকই খুঁজিয়ে নেব। আমি তোমার সেই ছোট্ট খোকাটি আর নেই। তোমার শাড়ির আঁচলের সেই মিষ্টি সুবাস কেউ জানে না মা আমি ছাড়া। আমিও আসছি মা ঠিক ঠিক তোমাকে খুঁজে নেব।খুঁজে নিব তোমার হাসিমাখা মুখ আর বাবাকে ।