• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
যুক্তরাজ্য বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটির সদস্য হলেন সোহেল আহমেদ সাদিক ধর্মপাশায় হাম টিকাদানে ব্রাকের সহযোগিতা টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নলুয়ার হাওরে বিপর্যয় তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান দিশেহারা কৃষক শক্তিশালী ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা অপরিহার্য নিয়ামতপুরে আড়াইলক্ষ টাকার ইয়াবা জব্দ ২ মাদক কারবারী আটক মহান মে দিবস: শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার কবিতাঃ কবিতার মর্গে বাস! জগন্নাথপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি মহসীন উদ্দিন পাবনায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ, ধর্ষক মোজাহারুল গ্রেফতার সাঁথিয়ায় প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নলুয়ার হাওরে বিপর্যয় তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান দিশেহারা কৃষক

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

শাহ্ ফুজায়েল আহমদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গিয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। পাকা বোরো ধান পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বৃহত্তম নলুয়ার হাওর, মইয়ার হাওর,বাগময়না, ভালিশ্রী ও পিংলা হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। কৃষকের অতি কষ্টে উৎপাদিত সোনালী ফসল পানির নিচে হারিয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিরাজ করছে হতাশা ও হাহাকার।
নলুয়ার হাওরের কবিরপুর, হলদিপুর, চিলাউড়া,ভূরাখালি ও নয়াগাঁও গ্রামের একাধিক কৃষক জানান,টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পারায় বড় অংশের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকেই বলেন,১৫ কেদার জমির মধ্যে মাত্র ৪-৫ কেদার ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন, বাকিটা নষ্ট হয়ে গেছে।
মইয়ার হাওরের নারিকেলতলা গ্রামের কৃষক ফয়জুল হক বলেন,ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি। এখন ধান পানির নিচে চলে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।” একইভাবে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের কৃষক মামদ আলী জানান, বর্গা ও ঋণ নিয়ে আবাদ করা ফসল নষ্ট হওয়ায় সংসার চালানো ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
ভালীশ্রী গ্রামের কৃষক আশরাফুল হক জানান, জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে তার অধিকাংশ জমির ধান পানির নিচে। সদর এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ১০ কেদার জমির মধ্যে মাত্র ২ কেদার ধান কাটতে পেরেছেন, বাকি জমি এখন পানির নিচে।
স্থানীয় সমাজসেবক ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ রেজাউল করিম রিপন জানান, শুরু থেকেই কৃষকরা শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতায় ভুগছিলেন। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত নলুয়ার হাওরের প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক এখনো ফসল তুলতে পারেননি। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে সময় লাগবে। এ বছর উপজেলায় ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজার ৬৪০ হেক্টরের ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, “উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।এতে হারভেস্টার মেশিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্রমিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে। তিনি আরও জানান,হাওরের সুরক্ষা বাঁধগুলো এখনো নিরাপদ রয়েছে এবং কোথাও ভাঙনের আশঙ্কা নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd