• মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

কবিতা: জীবন এক বিপ্লবী মহাকাব্য

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

​কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।

​জীবন এক বিপ্লবী মহাকাব্য,
ন্যায়বিচারে খুঁজে হয়রান সত্য।
জীবন এক অনন্ত মহাকাব্য,
বুকে হাত রেখে বলা যায় না-আমি অনবদ্য।

​আকাশে-বাতাসে ঘন কুয়াশার মাঝে,
নিগূঢ় কালো মেঘে যেন বজ্রপাত;
রক্ত টগবগিয়ে শিহরিত হৃদয়ে,
আবেগে জন্ম নেয় কবিতার সূত্রপাত।

​কবিতা সে তো ভোরের ভেজা ঘাসে,
শিশিরবিন্দুর গল্পে শুধু আবদ্ধ নয়;
সকালবেলার শিউলি ফুলের সৌরভে,
প্রাণ খুলে সকলেই মুখরিত হয়।

​সকালবেলার ঘন কুয়াশা শুকাতে,
ঝলমলে আলো দেয় মিষ্টি রোদ্দুর;
মুখ চাহনিতে সুখ অনুভূতি নিতে,
থাকে না সময় বেশি দূর।

​কর্ণ আছে তবুও বধির, জিহ্বা থেকেও বোবা,
এই দুনিয়ায় ঈমান নিয়ে বাঁচা নয় তো সোজা।
আজকে আমার, কালকে তোমার-সবই হবে নিঃশেষ,
অন্যায় রুখে জীবন দেবো, ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ।

​এই কবিতা এক উদ্বেলিত মহাকাব্য,
প্রকাশ করে লুকায়িত জ্ঞানের নিগূঢ় তত্ত্ব।
রসাত্মক ছন্দের তালে জ্ঞানের হয় বিনিময়,
ইচ্ছাশক্তি জাগে হৃদয়ে অনুপ্রেরণার সময়।

​জনতার নামে ক্ষমতা পেতে করছে আন্দোলন,
ধর্মনীতি বিক্রি করে চলছে প্রহসন।
সত্যকণ্ঠে আওয়াজ তুলে দেখায় ন্যায়ের পথ,
স্বপ্নচুরির ফন্দি এঁটে করে মিথ্যা শপথ।

​যেদিকে তাকাই লুটেরা, ঘুষের নেশায় মাতোয়ারা,
রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, লোভে সব দিশেহারা।
এই সমাজে দুর্বলকে যারা করে তুচ্ছ অবজ্ঞা,
মহান প্রভুর আসামি সে, পাবে না কোনো রক্ষা।

​নির্বাক হয়ে সম্ভ্রম হারানো কত মিনতির ডাক,
দেখেও দেখি না-কত সম্মান চলে গেলে চলে যাক।
হায়েনার চেয়ে হিংস্র থাবা, পশু যেন মোর মন,
লোলুপ দৃষ্টির কায়েনাত যেন চলে প্রতিক্ষণ।

​এহেন কর্মের অনুতাপ কেন লাগে না হৃদয়ে দাগ?
নিজের গায়েই লাগলে কাঁদি, হই তখন সজাগ।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠো ইসলামি নিয়ম জেনে,
পাপের শাস্তি কঠোর করো ধর্মীয় আইন মেনে।

​ছিঁড়ে ফেলো জিঞ্জির, ভেঙে ফেলো কারাগার,
সকল রিপুর অবসান ঘটিয়ে জেগে ওঠো আরেকবার।
অন্ধকারে আলো জ্বালাতে গড়বো শৃঙ্খল, ভাঙবো তালা,
ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ইনসাফের দুর্গে দেবো সত্যের মালা।

​চাই না ব্রহ্মাণ্ডের সুখ, চাই না কামুক ভাব,
নির্বাসনে যেতে চায় মন, চায় নতুন আবির্ভাব।
বীর্য-ধৈর্য অটুট রেখে চাই মহানের রথ,
শত অপমানে বিনয় ধরে খুঁজি সঠিক গতিপথ।

পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বের মহানায়ক,
পুরুষ নামক মানুষ যেন সকলেরই সহায়ক।
জীবন এক অবিনাশী যুদ্ধক্ষেত্র, যা চলছে অবিরাম,
বিনিময়ে সে চায় না কভু উচ্চ প্রতিদান।

​সমাজে সে ইস্পাত-কঠিন, রাষ্ট্রে অতন্দ্র প্রহরী,
পরিবারে এক ছায়া-বৃক্ষ, ধৈর্যের সংগ্রামী তরী।
বুকে পাহাড় সমান বোঝা, মুখে তবুও হাসি,
কর্তব্যের অমোঘ টানে জীবনকেও দেয় ফাঁসি।

​ক্লান্তিহীন সেই অভিযাত্রী, পিছুটান নেই মনে,
পরিবেশ পেতে বারবার হেরেও স্বপ্ন মনে বুনে।
বিপ্লবী এই জীবনকাব্যে সে এক মহান বীর,
অন্যায়ের কাছে ঝোঁকায় না সে উন্নত যেন শির।

সবার আগে সজাগ হয়ে ঘুমায় সবার পরে,
ভালো রাখতে সাজায় ঘর সকলেরই তরে।
স্নেহ-মমতার আঁচল তলে আগলে রাখে প্রাণ,
নিঃস্বার্থ সে সেবায় বিলায় নিজেরই সম্মান।

​সংসারেরই আঙিনাতে সে এক নিপুণ কারিগর,
তিলে তিলে করে গড়ে তোলে সুখের শান্তি ঘর।
কখনো মা, কখনো জায়া, কখনো হয় বোন,
উৎসর্গ করে হাসিমুখে সে সারাটি জীবন।

​ধৈর্যশীলা সেই মহীয়সী, সহনশীলতার প্রতিমা,
ত্যাগের মহিমায় আকাশছোঁয়া নেইকো তার সীমা।
অবিনাশী এই যুদ্ধক্ষেত্রে সে-ও এক সেনাপতি,
আলোর প্রদীপ মনে জ্বালাতে সে আধাঁরের জ্যোতি।

​শোষণের বাজনায় কত লাঞ্ছনার গোপন আর্তনাদ,
শোষিতের কষ্টে ব্যথিত হৃদয় গড়ে তোলে প্রতিবাদ।
শোষকের পতনে হও আগুয়ান, রুখো সকল অবিচার,
স্বার্থ হাসিলে নীরব সমাজে জানাই তীব্র ধিক্কার।

​সমাজের যত অন্যায়-জুলুমের নিচু কর্মকাণ্ড,
বিবেকহীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে সর্বস্বান্ত।
কবিতার লেখনীতে হৃদয়ে জাগাও দাগ,
বিবেকের তাড়নায় অপরাধী যেন নির্বাসনে যাক।

​মৃত হৃদয় জেগে ওঠে, ভাঙে সবার নিদ্রা,
উত্তাল মনে পাড়ি দেয় মহাসমুদ্রের যাত্রা।
বিবেক জাগায় কবিতা-মোক্ষম এক হাতিয়ার,
পরাস্ত করে জয়ী হতে লাগে না কোনো তলোয়ার।

​রক্তে হবো রঞ্জিত, তবু ছাড়বো না ন্যায়পথ,
অহর্নিশি যুদ্ধে ভাঙি আমি নফসের গতিপথ।
কলম আমার অস্ত্র, আমি চির প্রতিবাদী,
আমায় দমাতে শত্রুরা সজাগ থাকে নিরবধি।

​কবিতা এমন এক অনির্বাণ সাহিত্য,
তার স্বাদ পাওয়া যায় না যত্রতত্র।
আমি নই তো কবিতা লেখার যোগ্য,
তবুও এই কবিতা জীবন্ত মহাকাব্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd