• মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

আর যুদ্ধ চাই না

Reporter Name / ২৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

কলমে: শিরিনা আক্তার

যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই”—এই আহ্বান আজ শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং মানবজাতির টিকে থাকার অপরিহার্য দাবি। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত, যুদ্ধ ও অস্থিরতা মানবসভ্যতার জন্য এক ভয়াবহ সংকেত বহন করছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ যতই বাড়ুক, যদি মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে যায়, তবে সেই অগ্রগতি অর্থহীন হয়ে পড়ে। যুদ্ধ কখনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না; এটি কেবল ধ্বংস, মৃত্যু ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ—কেউই এর নির্মমতা থেকে রেহাই পায় না।

বিশ্বের নানা প্রান্তে চলমান সংঘর্ষ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং সংলাপ ও সহমর্মিতাই প্রকৃত সমাধানের পথ। আলবার্ট আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, “I know not with what weapons World War III will be fought, but World War IV will be fought with sticks and stones.” অর্থাৎ, যুদ্ধ যদি চলতেই থাকে, তবে তা সভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর সতর্কবার্তা।

আজকের বিশ্বে রাজনৈতিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক আধিপত্য এবং ক্ষমতার লড়াই মানুষকে বিভক্ত করছে। অথচ মানবতা আমাদের এক হওয়ার শিক্ষা দেয়। মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, “An eye for an eye will make the whole world blind.” প্রতিশোধ আর সহিংসতা কেবল অন্ধকারই বাড়ায়, শান্তি আনে না। তাই আমাদের উচিত সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা।

বর্তমান সময়ে যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, পরিবেশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে নিজেদের ভিটেমাটি হারাচ্ছে। শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর। এই বাস্তবতা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে—আমরা কি সত্যিই এই পথেই এগোতে চাই?

শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন আন্তরিক উদ্যোগ, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং মানবিক চেতনার জাগরণ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শান্তির বার্তা দিতে হবে। যুদ্ধের বদলে যদি আমরা সংলাপ, সহযোগিতা ও ভালোবাসাকে বেছে নেই, তবে পৃথিবী সত্যিই একটি বাসযোগ্য ও সুন্দর জায়গায় পরিণত হবে।

সুতরাং, “যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই”—এই আহ্বানকে শুধু মুখের কথা হিসেবে নয়, বরং জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের ছোট ছোট উদ্যোগই পারে বড় পরিবর্তন আনতে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি শান্তিময় পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাই, যেখানে অস্ত্রের গর্জন নয়, মানুষের হাসিই হবে সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd