মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন, চট্টগ্রাম
১৭ বছরের একটা ছেলে-নাম আশফাক কবির সাজিদ। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার পেকুয়া। থাকে চট্টগ্রাম চকবাজার। স্বপ্ন ছিল, পড়াশোনা ছিল, সামনে ছিল একটা পুরো জীবন। কিন্তু সেই জীবনটা থেমে গেল এমন এক নৃশংসতায়, যা কল্পনাকেও হার মানায়।
চট্টগ্রামের চকবাজারের ডিসি রোডে, একদল তরুণ তাকে ডেকে নেয়। বন্ধুর ডাকে গিয়েছিল—বিশ্বাস নিয়ে। অথচ সেই বিশ্বাসই তার জীবনের শেষ ভুল হয়ে দাঁড়াল।
ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোর করে তুলে নেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে ছুটে গিয়ে ঢুকে পড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে। দরজা বন্ধ করে দৌড়ে উঠে যায় আটতলায়। হয়তো ভেবেছিল—ওখানেই বাঁচবে।কিন্তু বাঁচতে পারেনি।গেট খুলে দেওয়া হয়। ওরা ওপরে উঠে যায়। মারধর করে।তারপর… তাকে ফেলে দেওয়া হয় লিফটের অন্ধকার গর্তে। ভাবা যায়?একটা ছেলে শেষ মুহূর্তে কতটা ভয় পেয়েছিল?কতটা বাঁচতে চেয়েছিল?
হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শেষ হয়ে যায় একটা সম্ভাবনা, একটা পরিবার, একটা পৃথিবী।প্রশ্ন হচ্ছে—আমরা কোথায় যাচ্ছি?বন্ধুত্বের নামে ডেকে নিয়ে এমন নৃশংসতা—এটা কি শুধু কিছু বিপথগামী তরুণের কাজ, নাকি আমাদের সমাজের গভীর অসুখ? আরো ভয়ংকর বিষয়—একজন নিরাপত্তাকর্মীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এই সমাজে তাহলে নিরাপত্তা কোথায়? আজ আশফাক, কাল কে? এই ঘটনাকে শুধু ‘খবর’ হিসেবে দেখে পাশ কাটিয়ে গেলে ভুল হবে।এই নীরবতা একদিন আমাদের সবার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।ন্যায়বিচার চাই।
কিন্তু তার চেয়েও বেশি দরকার—এই অমানবিকতা থামানোর সামাজিক প্রতিরোধ।