• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

বৃহস্পতিবার বেশি দূর না- একটি উপবৃত্তি, একটি ইংরেজি জন্মসনদ ও আমার নবাবী বাড়ির গল্প

Reporter Name / ৭ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

মোঃ রেজন মিয়া

আমার জন্মসনদ ২০০৮ সালে বাংলা হাতের লেখায় নিবন্ধন করা হয়েছিল। ২০২০ সালে হাইস্কুলে ভর্তির সময় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেটি কম্পিউটারে বাংলা টাইপ করে ইস্যু করিয়ে নিয়েছিলাম। এসব কাজ যাঁরা করেন, তাঁদের কাছে আমরা সেবা নিতে যাই না, বরং এমনভাবে যেতে হয় যেন তাঁদের কাছে অনুরোধ করছি।

গত ৩ মে, ২০২৬ কলেজ থেকে নোটিশ এলো: “উপবৃত্তিজনিত কারণে জরুরি ভিত্তিতে নিম্নোক্ত রোল নম্বরধারী শিক্ষার্থীদের অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হলো”। সেই তালিকায় আমার রোলও ছিল।

পরদিন কলেজে গেলাম। কলেজ অফিস থেকে জানাল, উপবৃত্তির জন্য জন্মনিবন্ধন ইংরেজিতে করতে হবে। কলেজ থেকে পায়রাবন্দ বাজারে এসে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটরকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলাম। তিনি বললেন, “আপনার জন্মনিবন্ধন, এসএসসির মার্কশিট, বাবা-মায়ের ভোটার আইডি কার্ড দিন।”

সব পাঠিয়ে দেওয়ার পর তাঁর রিপ্লাই এলো, “এসব তো বোনারপাড়ায় ইউএনও অফিসে করা হয়। আমাদের এখান থেকে শুধু আবেদন করে দিতে পারব, কাগজপত্র আপনাকে বোনারপাড়ায় গিয়ে জমা দিতে হবে। এখন আবেদন করব?” আমি বললাম, “করুন”।

সেদিনই বাড়ি ফিরে এলাম। আজ ৫ মে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখি, আবেদন করাই হয়নি। প্রায় আড়াই-তিন ঘণ্টা পরিষদে বসে থাকার পর আবেদন করা হলো। আবেদন বাবদ নিল ১২০ টাকা।

সেই আবেদনের কাগজ নিয়ে ছুটলাম বোনারপাড়া ইউএনও অফিসে। অফিসে ঢুকে দেখি, আমার থেকে পাঁচ-সাত বছরের বড় একটা ছেলের হাতেও আমার মতোই কাগজ, কিন্তু তাঁর কাজ শেষ। যে লোকটির কাছে কাগজ জমা দিতে হয়, তাঁর আর ছেলেটির কথোপকথন শুনে বুঝলাম: ছেলেটির বাড়ি বোনারপাড়া, আর ওই লোকের বোনের বাড়িও বোনারপাড়া।

আমার কাগজ জমা নিয়ে তিনি বললেন, “বৃহস্পতিবার পাবেন।” আমি বললাম, “একটু দ্রুত করা যায় না? কলেজের উপবৃত্তি করতে হবে, মেয়াদ কম।” তিনি উত্তর দিলেন, “হবে না। বৃহস্পতিবার বেশি দূর না।”

কিন্তু আমার সরল মনে সন্দেহ জাগল: বোনারপাড়ার ছেলেটির কাজ যদি এখনই হয়, আমারটা কেন হবে না? আমি আমার মত প্রকাশ করলাম। যদি এদেশে বাক্‌স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে আমার এই লেখাটা হয়তো ব্যর্থ হবে।

পায়রাবন্দ থেকে আমার বাড়ি যেতে দেড়শ টাকা ভাড়া লাগে। বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে লাগে পাঁচ টাকা, আমি হেঁটেই গেছি। পরিষদ থেকে একটু সামনেই উল্যাবাজার। উল্যায় কাগজপত্র ফটোকপি করতেও খরচ হলো, তিনটা ফটোকপি দশ টাকা, বিশ টাকার ফটোকপি করতে হলো। সেখান থেকে বোনারপাড়া যেতে লাগল পঁচিশ টাকা। অটো এক জায়গায় নামিয়ে দিল, সেখান থেকে ইউএনও অফিস হেঁটে গেলাম; অটোতে গেলে আরও পাঁচ টাকা লাগত।

আমাকে তো জন্মনিবন্ধনের কাজ সেরে আবার পায়রাবন্দে ফিরতে হবে। পায়রাবন্দ থেকে কলেজে যেতে লাগে চল্লিশ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদ যদি নিজেই ইংরেজি জন্মসনদ করে দিতে পারত, আর এসব কাজের জন্য কিছু টাকা কম নিত, তাহলে এই হয়রানি, টেনশন আর কিছু টাকা বাঁচত।

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি পাইনি। শিশু শ্রেণি, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণিতেও না। কলেজে এসেও যদি না পাই, তাহলে সরকারকে আমন্ত্রণ জানালাম: একদিন আমাদের নবাবী বাড়িতে ঘুরে আসবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd