• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline

মমতা বন্দোপাধ্যয়ের পরাজয়!

Reporter Name / ১০ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

কলমে: ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম

পশ্চিম বাংলায় পনের বছরের “মমতা” নির্ভর দল “তৃণমূল কংগ্রেসের” পতন ঘটেছে! ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট রাজত্ব কে পরাজিত করে ক্ষমতার মসনদে চড়েছিলেন জহরলাল নেহেরু ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস দলছুট “মমতা বন্দোপাধ্যয়”! গত ১৫ বছরে মমতার ৮৮ হাজার ৭শো ৫২ বর্গকিলোমিটার পশ্চিম বাংলার ACHIEVEMENT নিয়ে আলোচনার জন্য আমার এই লেখা!

প্রিয় পাঠক, এক সময়কার ৫৪ হাজার বর্গকিলোমিটারের বাংলাদেশের চেয়েও বড় রাজ্য পশ্চিম বাংলায় কি দিলেন মমতা গত ১৫ বছরে! পাশের দেশ, বাংলাদেশের এত উন্নয়ন দেখেও কি তিনি মিল কলকারখানায় ভরে তুলেছিলেন পশ্চিম বাংলাকে না-কি বাংলাদেশ কে হিংসা করে তিস্তার জল না দিয়ে, দিল্লি সরিয়ে বাংলাদেশ কে মরুভূমি করার চক্রান্তে পুরো সময়টা ব্যয় করেছেন?
হুগলি নদীর নব্যতা রক্ষা এবং শিলিগুড়ির গজল ডোবায় বাঁধ দিয়ে সেঁচের ব্যবস্হার দোহাই দিয়ে আন্তর্জাতিক নদী কমিশন আইন ভঙ্গ করে বাংলাদেশকে জল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সৎ ইচ্ছা মমতা বাস্তবায়ন করতে দেন নাই। নিজ রাজ্যে কিছু চোলাই মদ কারখানা ছাড়া আর কিছুই করেন নাই!

তৃনমুল চিৎপটাং এর বড় কারন:

S I R এ অনেক ভোট বাদ পড়েছে, ভুয়া ভোট ছিলো না বললে চলে! দ্রব্য মূল্য অন্য রাজ্য থেকে বেশী, খোদ রাজধানীর পার্থক্য শুধু জেনে নিন —
দিল্লি পেট্রোল লিটার ৯৪ রুপি, ডিজেল ৮৭,
সেখানে মমতার রাজ্যে পেট্রোল ১০৫ এবং ডিজেল ৯২ রুপি! তিনি ভ্যাট ট্যাক্স কমাতে দেন নাই, এই হলো তার প্রজা প্রেম! সাহিত্যিক দেবাশীষ বাবু বলেছেন, ” তৃনমুল মানেই দুর্নীতি জনগনের মনে গেথে গিয়েছিলো!
স্কুল কলেজ ফি ডবল! স্বজন প্রীতি, তৃনমূল স্তর তৈরি সুবিধা ভোগী, তার উচ্চ পর্যায়ে নেতার বাড়ী থেকে কোটি কোটি রুপি উদ্ধার, মমতার সাদা শাড়ী চপ্পল আড়ালে তার ভাই আশিক কালি গনেশ অজিত অভিষেক রা যেন রাজ্যের জমিদার! এমন অনেক ক্ষোভ জমা ছিলো জনতার মনে! নির্বাচনে মমতার তৃণমূল অন্যবারের মত ভোট কাটি বা ভোটারদের ভয়ভীতি দিতে পারে নাই!
নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় নির্দেশে নিরপেক্ষ ছিলো, জনগণ সুযোগ পেয়ে সীল মেরেছে বিজেপি কে। তারা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দলে ফিরে আসায় দারুন খুশি। শুভেন্দু অধিকারী তাদের আশাবাদী করেছেন।

মোট কথা বেকারত্ব প্রকট, নতুন প্রজন্ম বেকারত্বের অভিশাপ মুক্ত হতে ভোট জোগাড় করেছে, মোদি ম্যাজিক কাজ করেছে জনগণের ভিতর। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, মুসলিম এক হয়ে ভোট দিয়েছে বিজেপি কে! পাশের বাংলাদেশে শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠে পশ্চিমবাংলা মদের কারখানা লাইসেন্স ছাড়া কোন উন্নয়ন নাই! মমতা প্রগতিশীল ছিলেন না মৌলবাদী ছিলেন! বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দিয়েছেন আগ্রহ সহকারে! অনেক হিন্দু মুসলমান তা মেনে নেন নাই।

মমতা ব্যানার্জির ভরাডুবির মোটামুটি প্রধান কারণ গুলো তুলে ধরলাম। মমতা নিজেও বক্তৃতা বিবৃতিতে অনেক মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা করেছেন। ১৮৫০ সালের তৈরি ব্রিজ, তিনি তৈরি করেছেন বলে দাবী করা ব্যালান্স হারানোর লক্ষন! মমতা আগামী পাঁচবছর ক্ষমতার বাইরে থাকার অর্থ হারিয়ে গেলো “তৃনমূল কংগ্রেস” নামক একটা রাজ্য ভিত্তিক রাজনৈতিক দল!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd