• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
জগন্নাথপুরে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, সড়ক অবরোধ নিয়ামতপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু গোয়াইনঘাটে অটো চালক সমবায় সমিতির ১৬ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন জগন্নাথপুরে ওলিউর রহমান মালেকা জনকল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় নতুন ইউএনও মোছাঃ তানজিনা খাতুন লোডশেডিংয়ে দিশেহারা জনজীবন কিশোর গ্যাং শেষ করে দিল একটি তাজাপ্রাণ আমিরাবাদ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন তরুণ সংগঠক ও সমাজ কর্মী তারেক আজিজ চৌধুরী জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত ব্যবসা—বিদ্যুৎ ও জেনারেটর সেবায় ভরসা হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা জাফলংয়ে কূপ থেকে দেশীয় পিস্তল উদ্ধার, আটক ৩

মানবজীবনের অন্তর্লোকে

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

কলমে: শিরিনা আক্তার

মানুষ—
সে নিজেই তার ভাগ্যের নির্মাতা,
তার কর্মই তার নিয়তি, তার চলার দিশা।

এই চিরন্তন সত্যের গভীর আলোয়
স্বর্গ আর নরক আর কোনো দূরবর্তী অলৌকিক রহস্য নয়,
এরা লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজের ভেতরেই—
তার চিন্তায়, তার কর্মে, তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে।

আমরা শুনে এসেছি—
মৃত্যুর পরে সৎকর্মের পুরস্কার স্বর্গ,
অসৎকর্মের শাস্তি নরক।
কিন্তু জীবনের প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি শ্বাসে
মানুষ নিজেই নির্মাণ করে
তার নিজের স্বর্গ, অথবা তার নিজের নরক।

যখন মানুষ নিজের সীমানা ভেঙে
অন্যের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেয়,
দুঃখী, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়,
ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকে—
তখন তার অন্তরের নিভৃত কোণে
নেমে আসে এক অপার্থিব প্রশান্তি।

সেই প্রশান্তি নিছক অনুভূতি নয়—
এ এক আলোকিত অস্তিত্ব,
এক নির্মল স্বর্গের অভিজ্ঞতা,
যেখানে মন পায় মুক্তির স্বাদ,
আত্মা খুঁজে পায় তৃপ্তির আশ্রয়।

কিন্তু—
যখন মানুষ লোভের অন্ধকারে হারিয়ে যায়,
হিংসা, বিদ্বেষ আর স্বার্থপরতার গভীরে ডুবে যায়,
অন্যায় আর অত্যাচারের পথ বেছে নেয়—
তখন সে নিজের ভেতরেই জ্বালিয়ে তোলে
এক নিঃশব্দ, অথচ দহনময় নরক।

বিবেক তখন আর চুপ থাকে না—
নীরব আর্তনাদে কাঁপতে থাকে অন্তর,
অপরাধবোধের আগুনে
প্রতিনিয়ত পুড়তে থাকে তার সত্তা।

এই দহন, এই অশান্তি—
কোনো দৃশ্যমান শাস্তি নয়,
তবু এর যন্ত্রণা
সবচেয়ে গভীর, সবচেয়ে অসহনীয়।

তাই স্বর্গ ও নরক—
কোনো দূরের অজানা গন্তব্য নয়,
এগুলো মানুষের নিজের সৃষ্ট বাস্তবতা,
তার জীবনযাপনের প্রতিচ্ছবি।

এই উপলব্ধিই মানুষকে শেখায়—
সুকর্মই জীবনের শ্রেষ্ঠ সাধনা।

সৎচিন্তা, সদাচরণ, পরোপকারিতা
আর নৈতিক দৃঢ়তায় গড়ে ওঠে মানুষের মহত্ত্ব;
সে হয়ে ওঠে আলোর বাহক,
সমাজে ছড়িয়ে দেয় সৌন্দর্য, মানবতা আর আশার দীপ্তি।

আর কুকর্ম—
প্রতারণা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা আর অবিচার—
ধীরে ধীরে নিভিয়ে দেয় মানুষের ভেতরের আলো,
ধ্বংস করে তার মানবিক সত্তা,
ডেকে আনে অন্ধকারের পরিণতি।

তাই প্রয়োজন—
আত্মশুদ্ধির অবিরাম সাধনা,
বিবেকের জাগরণ,
আর ন্যায়নিষ্ঠ জীবনের দৃঢ় অঙ্গীকার।

যে মানুষ সৎকর্মে নিজেকে নিবেদিত রাখে,
যে দূরে থাকে অন্যায় ও কুকর্ম থেকে—
সে-ই খুঁজে পায় প্রকৃত শান্তি,
সে-ই উপলব্ধি করে সফলতার সত্য অর্থ।

অতএব—
স্বর্গ খুঁজতে আকাশের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই,
নরক খুঁজতে পাতালের অন্ধকারে নামার প্রয়োজন নেই।

মানুষ তার প্রতিটি কাজে,
প্রতিটি সিদ্ধান্তে,
প্রতিটি মানবিক স্পর্শে
নিজের ভাগ্য নিজেই লিখে চলে।

আর সেই লেখার ভেতরেই
ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে—
তার স্বর্গ,
অথবা তার নরক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd