• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কিশোরগঞ্জে হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে মুক্ত বাদী পক্ষকে হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ও ইফতার মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত কবিতাঃ রকমারী ভালোবাসা কবিতা: চরিত্র- কলমে: শিরিনা আক্তার কয়রা সদর ইউনিয়নে এলএলএপি অভিযোজন প্রক্রিয়ার ত্রৈমাসিক ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হাজারো মানুষের অংশ গ্রহণে জগন্নাথপুরের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আলী হোসেনের জানাজা সম্পন্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতে ইসলামের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুরে অল টাইম ক্লিন ও শাপলা টিমের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ভাষা সৈনিক ও নারী নেত্রী বেগম মাজেদা আলীকে সম্মাননা আজকে আমার জন্মদিন

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, বিশ্বস্বাস্থ্য অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী ।

ড. এম এ মুহিত আরো বলেন, ‘অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অধ্যাদেশটি সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস হয়ে আইনে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ২ লাখ মানুষের, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন। অপরদিকে তামাকের অর্থনৈতিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

এই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপানের পাশাপাশি সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা; বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনসহ ইন্টারনেট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন করা সহ অন্যান্য আরো কিছু বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

তাহসিনা রুশদীর বলেন, ‘তামাকের ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ১১ শতাংশেরও বেশি নারী মৃত্যুবরণ করে তামাকজনিত রোগে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইন রূপান্তরের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।’

শেখ মোমেনা মনি বলেন, ‘তামাক খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও, চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও অকাল মৃত্যুর কারণে এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল ক্ষতি ও প্রাণহানি রোধের লক্ষ্যে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। নবনির্বাচিত সরকারকেও এই অবস্থান ধরে রেখে আইনের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।’

অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি অনুমোদন করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার দায়িত্ব নবনির্বাচিত সরকারের। কেননা যে দলটি এখন সরকার গঠন করেছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তারা এ বিষয়ে অঙ্গীকারও করেছিলো। তাই নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা করতে অধ্যাদেশটি পাস করে আইনে পরিণত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর সভাপতি মাসুমা আলম, নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম, ইয়ূথ ফোরাম এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। উপস্থিত সকলেই অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে রূপান্তর করার জোর দাবি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd