• সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনী- ইহুদিদের পণ্য বর্জন করুন: মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার

আধিপত্যবাদ বিরোধী জনতার মঞ্চ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ঈমানী শক্তিতে বলিয়ানে ইরানী যোদ্ধাদের সাড়াসী আক্রমনে ইসরায়েল ও মার্কিনীরা তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও যেকোনো সময় আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বের সব শান্তিকামী মানুষকে সাম্রাজ্যবাদী ইহুদি-মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইরানের ওপর ইসরায়েল ও আমেরিকা বর্বরোচিত সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে বিশ্ব মানবতাকে পদদলিত করেছে। ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনীদের অন্যায় আক্রমণ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারাবিশ্বের শান্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার ১০ এপ্রিল বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে ইরানে ইহুদি-মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে, ইহুদি-মার্কিনীদের পণ্য বর্জন দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষেভ মিছিলের সভাপতি ও আধিপত্যবাদ বিরোধী জনতার মঞ্চ এর প্রধান সমন্বয়ক বিশিষ্ঠ নজরুল গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান এসব কথা বলেন। বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের প্রতি অনুরোধ করে তিনি আরো বলেন, ইসরায়েল এবং তাদের প্রধান সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্য বর্জন করুণ। আমরা যখন তাদের পণ্য বা সেবা ক্রয় করি, তখন সেই লভ্যাংশের একটি অংশ পরোক্ষভাবে সামরিক খাতে ব্যয় হয়। তাই এসব পণ্য বর্জন করা মানে হলো আগ্রাসনের অর্থায়নে বাধা দেওয়া।
আমাদের দেশে এমন অনেক ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা সরাসরি ইসরায়েলি বা মার্কিন মালিকানাধীন বা তাদের সাথে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে আবদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে দেশি কিছু অসাধু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও এসব আগ্রাসী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এসব পণ্য ও সেবাকে চিহ্নিত করা এবং বিকল্প হিসেবে দেশি পণ্যকে বেছে নেওয়া। কোমল পানীয় কোকাকোলা থেকে শুরু করে প্রসাধন সামগ্রী বা প্রযুক্তি সব ক্ষেত্রেই এখন মানসম্মত দেশীয় বা বিকল্প ব্র্যান্ড বিদ্যমান। আমাদের কেনাকাটার অভ্যাসে ছোট পরিবর্তন আনলে তা একদিকে যেমন আগ্রাসী শক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে আমাদের দেশের স্থানীয় শিল্পকে সমৃদ্ধ করবে। ইরানের ওপর হামলার মতো ঘটনার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনসহ মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের অর্থনৈতিক সংহতি বজায় রাখা জরুরি। আপনার প্রতিটি কেনাকাটা যেন কোনো অন্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতা না করে, আজ সেই শপথ নেওয়ার সময় এসেছে। ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ মুসলিম দেশ সমূহের নেতৃত্বে নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সুদৃঢ়করণ ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী “ইসলামিক ন্যাটো” বা সামরিক জোট গঠন করতে হবে যার লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সংগঠনের সমন্বয়ক, বিশিষ্ঠ মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব ও রাস্ট্রচিন্তক মঞ্জুর হোসাইন ঈসার পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন, বিশ্বসেরা কবি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম রুস্তম, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, ইসলামী বুদ্ধিজীবি ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হাদী। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শওকত আমীন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাওলানা আলহাজ্ব মাসুদ উর রহমান বিক্রমপুরী, আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয় মঞ্চ এর কো-চেয়ারম্যান হাজী মো. নাঈম হাসান, আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুজ্জামান ,জাস্টিস পাটির চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আবুল কাসেম মজুমদার, ইসলামী ঐক্যজোট এর মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মির্জা শরীফুল আলম, ব্রাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর চেয়ারম্যান মাওলানা ওবায়দুল হক, অধ্যাপক শরীফুল হক, বাংলাদেশ কংগ্রেস এর সহকারী মূখপাত্র কবি সেলিম রেজা বাচ্ছুু, মৌলানা বেলায়েত হোসেন, মাওলানা আব্দুল হালিম সিরাজীসহ আরো অনেকে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দরা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্বরোচিত সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে খোঁদ আমেরিকার জনগণ বিক্ষোভে ফেঁটে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ইসরায়েল ফিলিস্তিন, গাজা, লেবানন, মিশরসহ আশেপাশের অনেক দেশের উপর দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে দখলবাজী, হামলা ও গণহত্যা চালিয়েছে। নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, গত ৪০ দিনের যুদ্ধে আমেরিকা ও জায়নবাদী ইসরায়েলের সামরিক যন্ত্রকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। আমেরিকা কয়েকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং ট্রাম্পের দেওয়া কোনো আল্টিমেটামকেই ইরান গুরুত্ব দেয়নি।ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নেতা শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পবিত্র রক্তের বরকতে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির দূরদর্শী নেতৃত্বে ইরান বিশাল জয় অর্জন করেছে। আমাদের দাবি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সব সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের হিজবুল্লাহসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।
মহান আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি সঞ্চয় করে রাখো”। সবচেয়ে বড় শক্তি- ঈমান ও আমল। মহান আল্লাহ আরো বলেছেন, “তোমরা ভীত হয়ো না, তোমরা চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা ঈমানদার হও”। সমাবেশ শেষে ইরানে ইহুদি-মার্কিন হামলা বন্ধের দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd