মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসন ঘিরে এখন যেন এক ভিন্ন আবহের সঞ্চার হয়েছে। গ্রামগঞ্জের অলিগলি, বাজার থেকে চায়ের আড্ডা সবখানেই নির্বাচনের আলোচনা যেন এক অনিবার্য প্রসঙ্গ হয়ে উঠেছে। মানুষের মনে জেগেছে নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। সাধারণ ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীদের মধ্যে এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হতে পারে।
বিএনপি সমর্থকদের ভাষ্যমতে, দলীয় মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন একজন সৎ, বিনয়ী ও জনমুখী রাজনীতিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আস্থা অর্জন করে আসছেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়েও তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দি নেতাকর্মীদের জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে তাদের পরিবারের খোঁজখবর রাখা সব ক্ষেত্রেই তার মানবিক উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট। তার সাদামাটা জীবনযাপন ও আন্তরিক আচরণ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে বলে তারা মনে করেন। সমর্থকদের প্রত্যাশা, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার উন্নয়নযাত্রা নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে এবং এলাকার মানুষের জীবনমান আরও সমৃদ্ধ হবে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামের সমর্থকরা জানান, জামায়েত ইসলাম আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালনা করে থাকে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী একজন অভিজ্ঞ, নীতিবান ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তারা বলেন, তিনি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় কণ্ঠে কথা বলেছেন এবং অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অতীতে দুইবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন বলে সমর্থকদের দাবি। রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পার করে কারাবরণের মতো কঠিন সময়ও তিনি অতিক্রম করেছেন, যা তার রাজনৈতিক অধ্যবসায়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের মতে, এ অঞ্চলে তার জনপ্রিয়তা এখনও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন এমন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাতকানিয়া–লোহাগাড়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের সমর্থন প্রায় সমান শক্তিতে অবস্থান করছে। সাধারণ মানুষ মনে করেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের উভয় প্রার্থীই অত্যন্ত সৎ, চরিত্রবান ও দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তাদের জনপ্রিয়তাও কোনো অংশে কম নয়। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটযুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচন যেন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। মানুষের বিশ্বাস, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।