নিজস্ব প্রতিবেদক:
“যদি চাঁদাবাজির নাম হয় সমঝোতা, আর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে পতিত সরকারকে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করা হয়, তবে তা শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা”—লেখক সাবিত রিজওয়ানের এই বক্তব্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শহীদ ওসমান হাদীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি যে আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিচ্ছে।
রিজওয়ানের বক্তব্যে মূলত রাজনৈতিক সমঝোতার প্রকৃতি এবং তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তার মতে, যদি কোনো সমঝোতা জনস্বার্থের পরিবর্তে বিশেষ স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে, তাহলে তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত করেছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে তা নিয়ে জনমনে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সনদকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখেছিলেন। ফলে এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা বা বিলম্ব দেখা দিলে তা আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তার বক্তব্যে শহীদদের আত্মত্যাগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে, যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নৈতিক দিক নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সমঝোতা অনেক সময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হয়, যা স্থিতিশীলতা ও সংলাপের পথ তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, কোনো সমঝোতার প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করে তার ফলাফল এবং জনস্বার্থে তার প্রভাবের ওপর।
অন্যদিকে, আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকের কাছে শহীদদের স্মৃতি ও তাদের আদর্শ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে যে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা সেই প্রেক্ষাপটে বিচার করা হয়। রিজওয়ানের বক্তব্য সেই আবেগ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, আন্দোলনের লক্ষ্য এবং বাস্তব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত শুধু কৌশলগত নয়, বরং তা জনআস্থা ও নৈতিকতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫