মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
দীর্ঘ দেড়যুগের নীরব প্রতীক্ষা শেষে আবারও গণতন্ত্রের দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। যে ভোটাধিকার একসময় বুকের গভীরে জমে থাকা স্বপ্ন হয়ে ছিল, তা এবার বাস্তবের আলোয় উদ্ভাসিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট প্রয়োগের দিন, মানুষ ফিরে পেতে চায় তার কণ্ঠ, তার সম্মান, তার নাগরিক অধিকার।
এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ চায় না কোনো অশান্তি, চায় না বিশৃঙ্খলা কিংবা ভয়। তারা শুধু চায় একটি নির্ভয় সকাল। যেদিন সূর্য উঠবে শান্তির বার্তা নিয়ে। মায়ের হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে যাবে সন্তান, লাঠিতে ভর দিয়ে লাইনে দাঁড়াবেন বৃদ্ধ পিতা, আর তরুণেরা প্রথম ভোট দেওয়ার আনন্দে উজ্জ্বল চোখে তাকিয়ে থাকবে ব্যালট বাক্সের দিকে।
দেশজুড়ে এই শান্তির প্রত্যাশার ঢেউ এসে লেগেছে চট্টগ্রাম–১৫ আসন, সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার জনপদেও। এখানকার সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিটি ভোটকেন্দ্র হবে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ভয়মুক্ত। কোনো অদৃশ্য শঙ্কা যেন ভোটারদের পথ রুদ্ধ না করে, কোনো চাপ বা প্রভাব যেন মানুষের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে দমিয়ে না রাখে।
সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার মানুষ আশাবাদী এবারের নির্বাচন হবে শান্তির নির্বাচন, মানুষের নির্বাচন। এখানে ভোট হবে শক্তির নয়, হবে মতের। দাপটের নয়, হবে অধিকার ও বিবেকের। ব্যালট বাক্সের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ নির্ভয়ে বলবে “এই আমার সিদ্ধান্ত, এই আমার ভবিষ্যৎ।”
আজ তাই হাট-বাজার, চায়ের দোকান কিংবা পথের আড্ডায় একটাই প্রত্যাশার কথা শোনা যায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হোক গণতন্ত্রের উৎসব। যেখানে সহিংসতার নয়, বিজয় হবে শান্তির। ভয় নয়, জয় হবে মানুষের হাসির। সেই হাসিই হবে এই জনপদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সবচেয়ে বড় অর্জন।