মোঃ ইদ্রিস শেখ, বাগেরহাট:
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোংলা–ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের একটি অংশে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা ভণ্ডুল করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ খনন না হওয়ায় মোংলা–ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে পলি জমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। এই সুযোগে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যু চক্র নদীভাঙন বা চরভূমির নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে হাজার হাজার একর জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামপাল উপজেলার মুজিবনগর এলাকার নদীর ভরাট হওয়া অংশকে কেন্দ্র করে একটি চক্র নদীভাঙা জমির কাগজপত্র তৈরি করে এবং অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিগত সেটেলমেন্ট জরিপের সময় ওই জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেয়। পরে সেই জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে দখল স্থায়ী করার চেষ্টা চালানো হয়।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ শিখস্তি বা পয়োস্তি দাবি করে আবার কেউ নদী ভরাট হওয়া জমিকে নিজেদের মালিকানাধীন বলে দাবি করে আদালত থেকে একতরফা রায় নিয়ে সরকারি জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ফলে মোংলা–ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদীর চরভূমি দখল হয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরকারি আইন অনুযায়ী নদীর তীরভূমি ও প্লাবনভূমি রাষ্ট্রের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এসব জমির বড় একটি অংশ বর্তমানে ভূমিদস্যুদের দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে এলাকাবাসী বিষয়টি রামপাল–মোংলা আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রামপাল উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী তাৎক্ষণিকভাবে মুজিবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সরেজমিনে গিয়ে তিনি দেখতে পান, চ্যানেলের একটি অংশে মাটি ফেলে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এ সময় জমির মালিকানা দাবি করা ফকির রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, জমিটি তার ভাই শাহাদাৎ ও জাফরের বলে দাবি করে সেখানে বাঁধ দিচ্ছেন।
এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী কঠোরভাবে চ্যানেলে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন। একইসঙ্গে তিনি স্যাদলার পাশের খালে দেওয়া বাঁধ দ্রুত কেটে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেন।
অভিযানের সময় বাইনতলা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের জনৈক সৈয়দ জাহিদ হোসেনের দখলে থাকা কাটাখালি খালের গোহালঘর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং অবৈধ দখলমুক্ত করে মোংলা–ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫