মোঃ মাহ্ফুজুল হক খান (জিকু), কিশোরগঞ্জ:
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ইং উপলক্ষে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরী করে জেলা সদরের মহিনন্দ ইউনিয়নের মহিনন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক,সমাজ কর্মী, লেখক ও গবেষক মো.আমিনুল হক সাদী।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের মহিনন্দ উচ্চবিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও গোয়ালাপাড়াস্থ মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও পাঠাগারে এবং যুব উন্নয়ন পরিষদের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।
যুব উন্নয়ন পরিষদ,মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদী জানান,প্রতিবারের ন্যায় এবারে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালন করেছি। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনাসভাসহ পাঠাগারে বই পড়া ও পাঠ প্রতিযোগিতার কর্মসুচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এসব কর্মসুচীতে উপস্থিত ছিলেন মহিনন্দ ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবুল,মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন, গ্রন্থাগারিক ফারজানা আক্তারসহ সদস্যগণ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মহিনন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এই শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। অপর দিকে শুকুর মাহমুদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারেও পুষ্প স্তবক অর্পন করে মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ। মহিনন্দের প্রত্যোক সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের আয়োজনেও স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পন করা হয়।
যুব উন্নয়ন পরিষদ,মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদী বলেন,ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও আমাদের এই শ্রদ্ধা নিবেদন। তিনি আরও বলেন,২০০৯ সাল থেকে মহিনন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় এই শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আসছি। আমার প্রতিষ্ঠিত মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারে মহিনন্দ কর্নার,যুব কর্নার,মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার,কিশোরগঞ্জ কর্নারসহ প্রায় ৫ হাজার বইয়ের একটি সংগ্রহশালা ও প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যর আর্কাইভ গড়ে তুলেছি। প্রতিষ্ঠানটিতে ভবিষ্যতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসচর্চা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যুব কার্যক্রমে অনন্য অবদান রাখায় জেলায় যুব উন্নয়ন পরিষদ সংগঠনটি শ্রেষ্ঠ সংগঠন হিসেবে একাধিকবার সম্মাননা ও সনদ পেয়েছে। পাঠাগারটিও জেলায় বেসরকারি গণগ্রন্থাগার হিসেবে শ্রেষ্ঠ সম্মাননা ও সনদ পেয়েছে। এতে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন এই লেখক।