আকিক শাহরিয়ার, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
আদিকাল থেকেই সুনামগঞ্জের ইতিহাসে বিরল ইতিহাসের স্বাক্ষী কুস্তিগির ও কুস্তি খেলা। প্রাচীন এই খেলাটি ভাটি অঞ্চলের সুপরিচিত, এই কুস্তি খেলাটি ভাটি অঞ্চলের প্রাণ ভোমরা বললে কমতিই হবে। কুস্তি খেলাকে ঘিরে যে পরিমাণ আনন্দ বিনোদন, উল্লাসে মেতে উঠেন ভাটির মানুষেরা তা সুনামগঞ্জ জেলার বাহিরের লোকজন নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। আমাদের সুনামগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় বাইয়াপি বা দাওয়াতি কুস্তি খেলা নামে পরিচিত। খেলাটি নিয়ে আয়োজনের কমতি থাকে না। যদি খেলাটির আয়োজনের বর্ণনা দেই তা সম্পর্কের মেলবন্ধনের অভাবনীয় সেতু। যেমন যে দুটি গ্রামের মধ্যে খেলা হবে সেই দুটি গ্রামের প্রতিনিধিগণ গ্রামের ছোট বড় সর্বসম্মতিক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। ঐ প্রতিনিধিগণ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দিন তারিখ ধার্য করেন। পরবর্তীতে নিজ নিজ গ্রামের সবাইকে দিন তারিখ জানিয়ে দেন। আঞ্চলিক নিয়ম অনুসারে কুস্তি খেলার আগের দিন রাতে পুরো গ্রামের পুরুষ লোকজন (ঐ গ্রামে) অর্থাৎ আয়োজক গ্রামে জান। এদিকে আয়োজক গ্রামের ধনী গরীব প্রতিটি পরিবার তিন বেলা খাওন দাওনের প্রস্তুতি নেন। প্রস্তুতিতে গ্রামের মধ্যে কয়েকটি গরু জবাই করে। গ্রামের সবাই জবাইকৃত গরুর গোস্তো সামর্থ্য অনুযায়ী নেন । অতিথি আপ্যায়নের কোনো কমতি থাকে না । আর্থিক হিসাব অনুযায়ী ৩/৪ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। কুস্তি খেলার মাঠে চারপাশে হাজার হাজার দর্শকের আগমন ঘটে এবং বিভিন্ন আইটেমের দোকান পাটের মেলা বসে।
এই পুরানো শতবর্ষের স্মৃতি গুলো বিভিন্ন কোন্দলের কারণে বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম বা পায়তারা চলতেছে যেমন খেলাটি পরিচালনা করতে মাঠে ভিতর তিনজন লোক প্রয়োজন আর তিনজন লোক কে বলা হয় আমিন, ওরা তিন আমিন মিলে সম্পূর্ণ খেলা পরিচালনা করবেন এবং উনাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয় । এই বিষয়টি নিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন খেলায় আমিন গণ পক্ষপাতিত্ব বা স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। প্রায়ই কুস্তি খেলা ঘিরে বিভিন্ন গ্রামে
মারামারি ও ফেৎনা ফায়াসাদ সৃষ্টি হয় দেখে। সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের যে সকল কুস্তি প্রেমী গ্রাম রয়েছে প্রায় ৬৪/৭০ টি গ্রাম। প্রতিটি গ্রামের সালিশ বিচারক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দক্ষতা, বৃদ্ধিমত্তা খাটিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশকে কিভাবে সুশৃংখল পরিবেশে ফিরিয়ে আনা যায় সেই চেষ্টা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন সভা / মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এক পর্যায়ে কুস্তি প্রেমী গ্রাম গুলো একমতাবলম্বী হয়ে একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরিশেষে সুনামগঞ্জ কুস্তি ফেডারেশন নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
ঐ কমিটি তে ৬৪ টি গ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য ও বিভিন্ন পদে ছিলেন এবং ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি টি গ্রামে ৩০০০ টাকা করে সদস্য ফি জমা করেন ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এর কাছে। আরো কিছু গ্রামের জরিমানা সরূপ লক্ষাধিক টাকাও তাদের কাছে জমা হয়।
সেই সময়কাল ৬/৭ বছর পূর্বের কথা।
পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে কুস্তি খেলা ফেডারেশনের নির্ধারিত আমিন দিয়ে পরিচালনা করা হতো । চলমান খেলায় বছর দুয়েক যাওয়ার পর আবারো বিভিন্ন বির্তকের জন্মনেয়।
বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধিগণ প্রকাশ্যেই অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলছে। ফেডারেশনের কর্তাগণ, ফেডারেশনের তুয়াক্কা না করে নিয়ম বহির্ভূত, মনগড়া সিদ্ধান্তে ফেডারেশন পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেন। আরো অভিযোগ করেন, ফেডারেশন ক্যাশিয়ার বিহীন, ফেডারেশনের আয় ব্যয়ের হিসাব দিতে অনিচ্ছুক, বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধিগণ হিসাব চাইলে এরিয়ে জান, খেলার মাঠে স্বেচ্ছাচারিতা, একক ব্যাক্তত্ব ও কৃত্বিতের আদিপত্য প্রয়োগ করেন। ৬৪ গ্রাম বা দলের মধ্য থেকে দুয়েকজনের সিদ্ধান্তে ১২/১৬ দলকে নিষিদ্ধ করে তাছাড়া ৪ টি লাইভ সম্প্রচারিত চ্যানেল কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এনিয়ে সুনামগঞ্জ ভাটি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহি কুস্তি খেলা হুমকির মুখে। পারস্পরিক সম্পর্ক গুলো টানাপোড়েনের মধ্যে বহমান।
আমার অনুসন্ধানের ও ডকুমেন্ট অনুযায়ী আলোকপাত।
নিচের লেখাটি বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধিগণের পক্ষে আমার ইনবক্সে মেসেজ করেন।
আমি অবিকল তুলে ধরলাম।
ক্যাশিয়ার বিহীন সংগঠনের লক্ষ লক্ষ টাকা কার কাছে সংশ্লিষ্ট গ্রামের প্রতিনিধিগণ জানতে চায়
কুস্তি খেলা সুনামগঞ্জের অতি আলোচিত একটি খেলা যে খেলা কে কেন্দ্র করে এলাকার ক্রিড়াপ্রেমী গণে একটি সংগঠন গরে তুলেন নাম দেওয়া হয় সুনামগঞ্জ কুস্তি ফেডারেশন ওই সংগঠনের মাধ্যমে সভাপতি নিয়োগ করেন সাবেক কুস্তিগীর ও সাবেক চেয়ারম্যান জনাব নুরুল হককে এবং সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালিক কে সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয় এতে ৫৫ টি টিমে এর মাধ্যমে সূচনা হয় প্রতিটি টিম থেকে ৩০০০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হয় পাশা-পাশি বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে খেলায় অনিয়ম কে লক্ষ্য করে এক লক্ষ ৫০/২০/ ১০ /৫ /হাজার টাকা জরিমানাও করা হয় বিভিন্ন সালিশ বৈঠকের মধ্যেমে তা চলছে ৫ বছর কিন্তু এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে চলছে কমিটির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও নুরুল হক তার সভাপতিত্ব ছাড়তে নারাজ এমন স্বেচ্ছাচারিতার আচরণ দেখে এলাকার কিছু টিম এখান থেকে বাহির হয়ে যায় তবে এখন পর্যন্ত সংগঠনের পরিপূর্ণ হিসাব জনতার সামনে পেশ করা হয়নি কোথায় কত টাকা পেয়েছেন তাও উল্লেখ নেই রাজনৈতিকভাবে প্রবাহিত করছেন এই সামাজিক সংগঠনকে জনকল্যাণমুখী কোন কাজের লেস মাত্রই নেই লক্ষ লক্ষ টাকা এখন যেন কোথায় আছে জানতে চায় বিভিন্ন টিম লিডারগণ আবার কমিটির মেয়াদ দুই বছর থাকার পরেও এখনো বহত তবিয়তে রয়েছেন নুরুল হক ও মালিক মিয়া এ বিষয়ে বিগত ২১ সালে স্থানীয় সাংবাদিক সাম-সামীম নুরুল হক কে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির আখ্যা দিয়েছিলেন তখন এলাকার মানুষ তার প্রতি কেঁপে ওঠে কিন্তু আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে কেটে জানতে চাই এলাকার সুশীল সমাজের কয়েকজনের কাছে তারা অবলীলায় বলেন উনি একজন দুর্নীতিবাজ স্বেচ্ছাচারিতা
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫