লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
বাংলাদেশ নামক দেশটা ১৯৯০ সাল থেকে একটা গনতান্ত্রিক ফ্লেভারে ভালোই চলতেছিলো!
দেশটা কোন দেশের উপর নির্ভরশীল ছিলো না! চীন রাশিয়া ভারত আমেরিকা ব্যালান্সিং ভু-রাজনৈতিক অবস্থানে ছিলো! চীন জাপান ভারত উন্নয়ন কাজগুলো লোন যেগ্যতা এবং কারিগরি দক্ষতা অনুসারে ঠিকাদারি পেয়েছে বরাবর! জাপান চীন ডেভলপমেন্ট কাজগুলো বেশী পেয়েছে! ক্রয়, আমদানি রপ্তানি তে ছিলো
ভারসাম্য। চীন থেকে সাবমেরিন কিনেছে তো তুরস্ক থেকে ড্রোন কেনার আলোচনা! জ্বালানি তেল এলজি হিলিয়াম কাতার ভারত মধ্য প্রাচ্যের অন্য দেশ মিলে কখনও ঘাটতি হয় নাই।
অসুবিধা হলো বাংলাদেশের বিরোধী দল, এনজিও ব্যবসায়ী, কিছু সোকল্ড বুদ্ধিজীবি দেশ টার সরকার পরিবর্তনে বিশাল স্বার্থ দেখলো, যোগ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীন মোকাবিলা স্বার্থ! মার্কিন পূঁজি, বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশের শিক্ষিত অশিক্ষিতদের মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা এবং ক্ষমতাশীন সরকারের অচৈতন্য কুম্ভকর্ণ ঘুম! দিল্লি না ঢাকা, এখন দ্বিগুণ দিল্লি নির্ভর হাসিনা পরবর্তী দুইটা সরকার!
প্রিয় পাঠক, আমার বিষয় বাংলাদেশের কপাল পুড়তে মার্কিন ভুমিকা কেন জোরদার হলো! আমেরিকা অনেক হিসাব করে দেখলো, "মিয়ানমার বাংলাদেশ" মিলে একটা মার্কিন সেনা ঘাটি হলে চীন কে মোকাবিলা করতে সুবিধা হয়! আর একটা ইসরায়েল ও এই দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি করা সম্ভব হতে পারে! বাড়ী আমেরিকা মহাদেশে, কিন্তু বসবাস এশিয়াতে স্হায়ী হয়ে যায়!
আরাকান সেনাদের মিয়ানমারের প্রায় ৮৫% দখল তাঁকে আশ্বস্ত করলো! বাংলাদেশের রিজিম পরিবর্তন হলো দ্রুত, যা কে ক্ষমতায় বসানো হলো তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না বলে পদক্ষেপে ভুল করলেন! তবে সরকার প্রধান তার নিজ স্বার্থ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ পুরাপুরি দলিল করে দিয়ে নিজ ভুলের খেসারত দিলেন! ১৯৭২ এর আগে ফিরতে চেয়েও ভুল পদক্ষেপে পাকিস্তান আমলে ফিরতে পারলেন না বরং নির্বাচন দিয়ে নিজে নিরাপদ হলেও তার সমর্থিত দল পরাজিত হলো!
আমেরিকা বাংলাদেশের অবস্থান মোটামুটি ১৭৫৭ সালের লর্ড ক্লাইভের মত করতে সমর্থ হলে-ও চীন ভীতি তাঁকে তাড়া করে! পাকিস্তান ভারত চীন কে আমেরিকা হিন্দি সিনেমার ভিলেনের মত কুট কৌশলে সাপেনেউলে রাখতে সক্ষম আছে আজ-অব্দি! শুধু একটু বসতে পারলে devide and ruled প্রয়োজন হবে না, শুধু ঘাড়টা নাগাল পেতে যে দেরি! ইরানের সাথে মার্কিন জয়লাভ হলে নোবেলজয়ীর চুক্তি মত আমেরিকা বাংলাদেশে এসে বসবে শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যায়, সাথে আরকান, রাখাইন, এমন কি ভারতের সেভেন সিস্টার্স একদিন টেনে আনবে কানেধরে!
পাঠক, ইরানকে ৪৭ বছর সাড়ে ছয় হাজার নিষেধাজ্ঞা দিয়েও বশ করতে পারে নাই বরং তারা মডার্ন পরমাণু বিজ্ঞানে বিশ্বে সেরা জ্ঞান অর্জন করেছে! দক্ষিণ এশিয়া মুসলমান রা হাদিস মুখস্থ করে আর ইরান পরমাণু বিজ্ঞান পড়ে! গত ২৮ শে ফেব্রুয়ারী ইরান আক্রমণের পর ইরান প্রচুর তেল বানিজ্য করে পয়সা জমিয়ে re energised হয়েছে! ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল বাইরে না যেতে পারে সে জন্য হরমুজ outside blocked দিয়েছে শত-শত যুদ্ধ জাহাজ দিয়ে। মজার কান্ড হচ্ছে, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এক ঢিলে দুই পাখি মারেন, রাশিয়া থেকে জার্মানি যে তেল-গ্যাস পাইপ লাইন ৫২ বিলিয়ন খরচে তৈরি হয়েছিলো তা ধ্বংস করে ইউরোপীয় ৪০% তেল-গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া কে সোজা করার নামে অথচ ৭০০ গুন তেল-গ্যাস মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ইউরোপে, ইংল্যান্ড সবচেয়ে বেশী ভুক্ত ভোগী যার ফলে ততকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা গেলো। আজ ও ইরান কে সোজা করতে যেয়ে ইউরোপীয় সব দেশের তেল শীপ বন্ধ হয়ে গেলো। তা হলে কি আমেরিকা ইউরোপের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে, এমন ভাবার যথেষ্ট কারন আছে। বৃটেন ইতালি জার্মানি ফ্রান্স ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবে না বলেছে, যার মুল ভূমিকায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলেনি। তিনি বলেছেন, "ইসরায়েল ইরান আক্রমণ বন্ধ না করলে আমি তাকে আক্রমণ করবো!"
পাঠক, ইরান কাস্পিয়ান সাগর হয়ে রাশিয়া চীন তেল খাদ্য ঔষধ সরবরাহ পাবে এবং দিবে অনায়াসে , শিল্প কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোর।
ইরান কড়া হুশিয়ারি দিয়েছে মহা মুসলিম মধ্য প্রাচ্যের মার্কিন ঘাটি লালনপালন করা দেশগুলো কে, দ্রুত মার্কিন ঘাঁটি মুক্ত হতে বলেছে, অন্যথায় প্রথম টার্গেট হবে তারা!
বাংলাদেশ পর্যন্ত আমেরিকা দ্রুত পৌছাবে যদি ইরান চীন রাশিয়া PACT ব্যর্থ হয়!
লেখাটা জটিল ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ তত্ব, সবসময় ফেবু ,টুইটার, ব্লগ ও পত্রিকা পাঠক রুচি মনে রেখে স্বল্প দৈর্ঘ্য করতে হয় বিশাল বিষয়, এজন্য ভাষাগত হোচট থাকতে পারে, জটিলতা অনিচ্ছাকৃত।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫