মোঃ রফিকুল ইসলাম টিটু
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ১১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং এক অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসা সহকারীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
শিশুটির বাবা মানিক মিয়ার লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ মার্চ শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিশুটিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দীর্ঘ সময় জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। পরে অবসরপ্রাপ্ত সাবেক চিকিৎসা সহকারী রঞ্জন কিশোর চাকলাদার রোগী দেখেন, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কীভাবে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স সংগীতা বিশ্বাস ও ওয়ার্ড বয় পলাশ দাস চিকিৎসা সেবার পরিবর্তে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ছিলেন এবং রোগীর প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেননি। শিশুটির শ্বাসকষ্ট বাড়লেও সময়মতো অক্সিজেনসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়ের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মানিক মিয়া ধর্মপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল হাসপাতালের সামনে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন এবং “শিশুহত্যার বিচার” দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসা সহকারী রঞ্জন কিশোর চাকলাদারকে মারধর করলে তিনি আহত হন। এছাড়া বিক্ষুব্ধরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুবীর সরকার জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সহিদ উল্লাহ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।