স্টাফ রিপোর্টার
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীতে আবারও শুরু হয়েছে অবাধ পাথর উত্তোলন।(২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার) স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে পাথর তোলার মহোৎসব, অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রয়েছে কার্যত নির্বিকার। ফলে নদী ভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের আলোতেই ড্রেজার ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তলদেশ গভীর হওয়ায় আশপাশের এলাকাগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন আবারও তিস্তার গর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, পাথর উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বাড়লে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। ইতিপূর্বে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেই ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেক পরিবার।
পরিবেশবিদদের মতে, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এতে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং নদী রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন— এভাবে চলতে থাকলে কি আবারও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তিস্তার মহাগর্ভে বিলীন হবে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে, বিশেষ করে রাতের আঁধারে, চলে,তবে যথাযথ আইন অনুযায়ী যদি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এর সমাধান হয়তো অসম্ভব হয়ে রয়ে যাবে।