শাহরিয়ার আহমেদ সুমন, তানোর প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোরে ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতা ও তার অনুসারীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক পিতা ও পুত্র গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত জামায়াত সমর্থক মাসিকুল ইসলাম (২৩) বাদী হয়ে শুক্রবার তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয়েছে মামলা নম্বর–৩ হিসেবে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী–১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন মাসিকুল ইসলাম ও তার পিতা মফিজ উদ্দিন (৬২)। তাদের বাড়ি বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে গোদাগাড়ীতে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণার জনসভায় যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন মাসিকুল ইসলাম। এ সময় একই গ্রামের বাধাইড় ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাতেম আলী (৩৮), বিএনপি কর্মী সাফিউল ইসলাম (৩৫) ও মোহাম্মদ লিটন (৩০) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করে মাসিকুলকে ঘিরে ধরে।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মাসিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তার চিৎকারে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার পিতা মফিজ উদ্দিন ও মাতা। এ সময় হামলাকারীরা কোদালের হাতলসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপরও আঘাত করে। এতে পিতা মফিজ উদ্দিনও গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় গ্রামবাসীরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহত পিতা–পুত্র দু’জনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে আহতদের খোঁজখবর নিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও রাজশাহী–১ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ডা. ওবায়দুল্লাহ, তার সমন্বয়কারী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, তানোর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. আলমগীর হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, সেক্রেটারি ডিএম আক্কাছ আলী, মুন্ডুমালা পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, তানোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড উলামা বিভাগের সভাপতি মুফতি গোলাম কিবরিয়া বিন ইউনুস, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. সানাউল্লাহসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।