স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার বদলির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা। তবে ঘটনাটি ভিন্ন মাত্রা পায় যখন মানববন্ধনের মাঝেই উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদকারীদের সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেই অভিযোগ শোনেন ওই ওসি।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডিমলা উপজেলার প্রধান সড়কের শুঠিবাড়ি মোড়ে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা” ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ ডিমলা থানা পুলিশের উদ্যোগে থানা চত্বরে ইফতার মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। ওই ইফতার মাহফিল ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দাবি করা হয়, আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি ওই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিমলা সদরের দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ এবং তার ভাই নুরুল হক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানার সহযোগিতায় র্যাব-২ উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামান আসাদ (৩৫) ও নুরুল হক (৩১)-সহ মানবপাচার চক্রের আরও কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্তি পান এবং মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এমন অভিযোগ ওঠার পর প্রশ্ন দেখা দেয়—মামলার আসামি কীভাবে থানা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে ছাত্র-জনতার ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে হঠাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার। তিনি প্রতিবাদকারীদের সামনে গিয়ে তাদের সারিতেই দাঁড়িয়ে বক্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে মাইক হাতে নিয়ে নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আমরা কখনো কোনো অপরাধীকে দাওয়াত করতে পারি না। ওই ব্যক্তিকে থানার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ইফতারের সময় তিনি হঠাৎ করেই থানায় এসে ইফতারের টেবিলে বসে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।
এদিকে আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, যে টেবিলে মানবপাচারের মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি বসেছিলেন, তার আগে ওই টেবিলে অন্য কয়েকজন বসলে তাদের অনুরোধ করে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন বলা হয়, টেবিলটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত। এ ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওসি শওকত আলী সরকার বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধনের কথা শুনেই আমি সেখানে উপস্থিত হই। আয়োজকদের কাছ থেকে অভিযোগগুলো শুনেছি এবং সেগুলোর ব্যাখ্যাও দিয়েছি। বক্তব্য দেওয়ার পর অনেকের ভুল ধারণা দূর হয়েছে বলেও মনে করি।