মোহাম্মদ সুজন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার, জগন্নাথপুর
টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিস্তীর্ণ জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে রোদের দেখা মিলেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। এতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন কৃষকরা। তবে আগামীর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় শঙ্কা এখনও কাটেনি।
সরজমিনের গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান শোকাতে ব্যস্থ সময় পার করছেন কৃষকেরা। যদিও অনেক জমি পানিতে তলিয়ে গেছে যা ছিল রোদের জন্য শুকাতে না পারায় বেশি বিপাকে পড়েছিলেন। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বেতাউকা, বেড়ি সহ আশে পাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন রাস্তা উপর ধান শুকাতে দেখা যায়, অনেকেই আগে থেকে তৈরী ধান শুনানো মাঠে ধান শুকাচ্ছেন। প্রায় কৃষকের অধেকের বেশি ধান তলিয়ে গেলেও তারা বাকি ধান শুকিয়ে আগামী কয়েকমাস ভাতের ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছেন। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। আবার যেসব ধান কাটা হয়েছিল, সেগুলো রোদ না থাকায় খলায় পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। অনেক ধান চারা গজাচ্ছে দেখা গেছে। অনেকেই কাটা ধান ও গবাদিপশুর জন্য খড় রাস্তায় ও আঙিনায় ত্রিপল বিছিয়ে রোদে শুকাতে দিয়েছেন। কেউ কেউ পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটছেন।
উপজেলার বেতাউকা এলাকার কৃষক লোকমান হেকিম বলেন, হাওরে তাঁদের একমাত্র ফসলই হচ্ছে বোরো ধান। এই ধানের ওপর তাঁদের সারা বছর সংসারের খরচ নির্ভর করে। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টিতে হাওরের অর্ধেক খেতের ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি আসার আগে ডিজেল–সংকটে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যায়নি। এরপর পানি এলে বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায়নি।
হাওরপারের বেড়ী গ্রামের কৃষক সালাহ উদ্দিন জানান, ‘মেঘের পানিতে হাওরের প্রায় অর্ধেক জমি ডুবে গেছে। ২২ কিয়ার জমি করেছিলাম। এর মধ্যে ৬ কিয়ার পানির নিচে যায়, পরে আরও ৮ কিয়ার ডুবে গেছে। ৪ কিয়ার জমির ধান তুলেও রোদ না থাকায় শুকাতে পারিনি। সকালে আকাশ মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ কেটে গিয়ে দিনভর রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করে। এতে কৃষকরা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পর রোদের দেখা পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে হাওরপারে।
স্বজনশ্রী গ্রামের কৃষক সুমন মিয়া জানান, প্রায় ৩০০ মণ ভেজা ধান খলায় পড়ে ছিল। রোদ না থাকায় অনেক ধানে চারা গজিয়ে গেছে। গতকাল থেকে আজকের মতো রোদ থাকলে ধান নষ্ট হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে। রোদ কৃষকদের জন্য সাময়িক স্বস্তি হয়ে এসেছে। তারা দ্রুত ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। কারণ, আবার বৃষ্টি শুরু হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে- এ আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা হাওরপারের মানুষের।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কাউসার আহমেদ বলেন, এই রোদ কৃষকদের জন্য অনেক উপকারে আসছে। ঠিকমতো ধান শুকাতে পারলে এর গুণগত মান ভালো থাকবে এবং ন্যায্য দাম পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আরও দুই-তিন দিন রোদ থাকলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫