জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নদ-নদীতে ঢলের পানি বেড়েই চলেছে। নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি ও পানির প্রবল গতি দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। তাই দ্রুত ধান কর্তনের তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গত কয়েক দিন ধরে জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীসহ বিভিন্ন নদীতে নতুন পানি আসতে শুরু করেছে। তবে ২২ এপ্রিল বুধবার থেকে আশঙ্কাজনকভাবে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে এবং দ্রুত গতিতে নদীতে পানি চলাচল করছে। এতে কৃষকদের মাঝে ফসল হারানোর শঙ্কা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে দ্রুত ধান কর্তনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পাউবো জানিয়েছে, সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ অন্যান্য নদীর উজান অববাহিকায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি যে কোন সময় আগাম বন্যার পরিস্থিতি উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া হাওরের অভ্যান্তরে বৃষ্টিপাতের ফলে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। উক্ত সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কৃষকগণকে যে সকল জমির ৮০ ভাগ ধান পাকা এরূপ জমির ধান দ্রুত কর্তনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলা কর্মকর্তা শেখ ফরিদ তা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে-নদীতে নতুন পানি আসায় সাঁতার কাটতে দলবদ্ধ হচ্ছে শিশুরা। শিশুদের মনে আলাদা আনন্দ বিরাজ করছে। তারা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে নলজুর নদীতে সাঁতার কাটতে দেখাা যায়। এছাড়া সৌখিন শিকারীরা জালসহ বিভিন্ন মাছ ধরার ফাদ দিয়ে মাছ শিকারে মেতে উঠেছেন। একই সঙ্গে পানির জন্য যারা কষ্টে ছিলেন, নতুন পানি পেয়ে তাদের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। সচেতন মহলের অনেকে জানান, এটাই গ্রাম বাংলার চিরাচরিত রূপ। বৈশাখ মাস অথবা বৈশাখের পরে নদী ও হাওরে পানি আসবে। নতুন পানিতে দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে। তবে নদীতে আসা এ পানি যদি ফসল হানির কারণ না হয়, তাহলে মানুষসহ জীব বৈচিত্রের জন্য আশির্বাদ হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫