কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।
অফিস জুড়ে নিয়ম আছে-কাগজে কলমে লেখা,
বাস্তবে তার রূপ যে বদলায়, দেখে লাগে মনে ব্যথা।
বন্ধু হলে ছাড় মেলে, আত্মীয় হলে সোনার খাঁচা,
চাটুকারের কণ্ঠে সুর-শত ভুলে পায় না সাজা।
ধর্ম, গোত্র, খাস পরিচয়-তুলে দেয় সহজ দেয়াল,
যোগ্যতা হারায় সেখানে, ডুবে ন্যায়ের মায়াজাল।
বড় অন্যায় করে যে, হাসিমুখে পায় সে ক্ষমা,
ছোট ভুলে লাঞ্ছিত, নীরব চোখে ঘৃণা জমা।
কাজ কম করে যে, পায় সে সমান ভাগ,
সব দায় কাঁধে তার-যে কাজে দিবানিশি সজাগ।
পাহাড়সম দায়িত্ব যার, মাথায় থাকে চাপ,
অলস জনে দিব্যি হাঁটে, শত ভুলে পায় মাফ।
চাকরির বয়স দেখে সবাই মাপে- অভিজ্ঞতা যার নাম,
দক্ষতা আর কর্ম মূল্যায়ন পায় না কোনো দাম।
নিয়মের নামে প্রহসন চলে, অন্যায় হাসে চুপে,
সুশাসনের মুখোশ পরে-দুঃশাসন লুকায় রূপে।
কর্মী বান্ধব নামেই শুধু কাগজে লেখা বুলি,
বাস্তবে হয় কঠোর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীনতা যায় ভুলি।
কর্মী বান্ধব নামের তলে, শোষণের গোপন আঁতাত,
স্বপ্নগুলো শুকিয়ে যায়-নেই কোনো প্রতিবাদ।
হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে ক্লান্তির শত গান,
মানসিক চাপের বেড়াজালে, থেমে যায় সব প্রাণ।
কর্মজীবন কারাগার যেন বন্দি প্রতিটা প্রাণ,
কথা বলতে ভয় যে লাগে, হাসি যেন হয় অপমান।
হৃদয়ে আছে নীরব যন্ত্রণা-অদেখা বহু ক্ষত,
অতিরিক্ত কাজের বোঝা, সইবো আর কত?
বছর বছর দ্রব্যমূল্যের চলে ঊর্ধ্বগতি,
বেতন যেন আর বাড়ে না, হয় না তার উন্নতি।
ছুটির দিনও ছুটি নয় যেন ভাবনার এক পাহারা,
অসুখ এলেও দায়িত্ব বাড়ে, যুক্তিতে সব দিশেহারা।
নিয়মের অনলে পুড়ছে গোপনে, কর্মজীবীর নীরব আর্তনাদ,
মুখ বুজে সব করে সহ্য, যতই আসুক ঘাত-প্রতিঘাত।
অসাধ্য সব লক্ষ্য দিয়ে বাঁধে ব্যর্থতার জালে,
শোষণের চাকা ঘুরছে অবিরত, নতুন নতুন চালে।
টার্গেট যেন আকাশচুম্বী, ছোঁয়ার সাধ্য নাই,
অর্জিত লক্ষ্য তুচ্ছ অতি, নতুনের তাড়া পাই।
সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে আজ মানুষের মূল্যায়ন,
রক্তমাংসের মানুষ নয়, যেন লক্ষ্য অন্বেষণ।
স্বপ্নগুলো ধুঁকে মরে গ্রাফের জটিল রেখায়,
সফলতার বুলি যেন আজ মিথ্যে সুখ শেখায়।
মালিক পক্ষের দোষের ভার কর্মীর ঘাড়ে পড়ে,
যুক্তির জালে ফাঁসায় তারে, নীরবতায় ঘুরে ফিরে।
লোকসানের নামে কর্মী অধিকার কাটে, ভয় যেন জনমনে,
টিকে থাকার স্লোগান তুলে, শোষণ চলে গোপনে।
রাষ্ট্রীয় নিয়ম মানে না কভু, মানে না মানবিকতা,
স্বৈরশাসনে আইন চলে, কৌশলে দেখায় ক্ষমতা।
সকাল সন্ধ্যা অধিক রাত্রি কাজের কত বাহার,
মানুষ যেন যন্ত্র মেশিন, বলবো কী যে আর।
স্বপ্ন চুরি করে যেন কর্মীর রক্ত চোষে,
ঘূর্ণায়মান কাজের জালে সবাই তাতে ফাঁসে।
হাড়ভাঙা শ্রম দিয়েও পায় যে শুধু বঞ্চনা,
বিবেকহীন মালিকপক্ষ বোঝে না কারো যন্ত্রণা।
মালিকের ধাঁচে বসেরাও আজ-করে কত কটুভাষ,
অশ্লীলতায় মত্ত থাকে-ছড়ায় বিষাক্ত নিঃশ্বাস।
পদের জোরেই মনুষ্যত্ব ভুলে-চালায় অসদাচরণ,
অধীনস্থের ঘাম ঝরিয়ে-হাসে তারা সারাক্ষণ।
মিথ্যা আশ্বাসে করায় কাজ, দেখায় কত প্রলোভন,
স্বার্থ সিদ্ধি হলে মালিক, করে নানান প্রহসন।
প্রয়োজন ফুরালে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেয় অনায়াসে,
অশ্রুভেজা নয়ন যেন ভাগ্যের নির্মমতায় ভাসে।
প্রতিবাদ করলে তকমা মেলে-অযোগ্য তার নাম,
পরিবেশ নষ্টের অপবাদে বলে, এখন একটু থাম।
নিয়মের শত বেড়াজালে, বন্দি করে দেহ-মন,
স্বাধীনচেতা প্রতিটি স্বপ্ন, হয় যে ক্ষয়িষ্ণু ক্ষণ।
আছে কত নীরব যন্ত্রণা, অগণিত হৃদয়ে গাঁথা,
অতিরিক্ত কাজের চাপে, ঘুরে যেন সবার মাথা।
সময় পেরোয় ক্লান্ত মনে, বুকে জমে তীব্র ক্ষোভ,
কত প্রহর আশায় থাকে, যদি থামে সংস্থার লোভ।
সকাল আসে বারবার ঘুরে-মুখে মিথ্যে হাসি,
মনে আছে ক্ষোভের পাহাড়, জ্বালায় বিষের বাঁশি।
কর্মজীবন বয়ে চলে যেন, পাই বিপথের ঢেউ,
সঠিক পথে দিশা দিতে হায়! আসবে না কি কেউ?
প্রতিদিনই সূর্য ওঠে, মুখে বাধ্য হাসি,
মনে জ্বলে প্রতিবাদের আগুন, নীরব ভাষাভাষী।
কবে আসবে সেই দিনটি, ন্যায়ের হবে জয়?
মানুষ হবে মানুষের পাশে, রুখবে অন্যায়-ভয়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫