কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ
সকালবেলা অফিস খোলে নিয়মে তার দ্বার,
কর্মী খুঁজে অজুহাত শুধু মন থাকে যে ভার।
চেয়ারে বসে ভাবের ছলে সময় করে ক্ষয়,
দায়িত্ব থেকে দূরে সরে, মনটা কেমনে সয়।
ফাইল খুলে তাকায় শুধু, চোখে ঘুমের ছাপ,
কাজের নামে অভিনয়, ভিতরে ফাঁকির চাপ।
হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে অলসতার রং,
সততার পথ ছেড়ে নেয় সহজ কত ঢং।
কেন এমন হয় বলো, কোথায় তার মূল?
স্বপ্নহীন কর্মজীবন, অনুপ্রেরণাহীন শূন্য ফুল।
নিয়ম শুধু বেঁধে রাখে, নেই ভালোবাসা,
তাই তো কাজে মন বসে না, বাড়ে ফাঁকির আশা।
মালিক ভাবে সবই ঠিক, চলছে কাজের রথ,
অদৃশ্য ক্ষয় জমে ওঠে-নেই যে মতামত।
সহকর্মীরাও দেখে চুপ, কেউ বলে না কথা,
নীরবতার দেয়াল গড়ে, বাড়ে গহীন ব্যথা।
চেয়ারের নিচে জমা ক্লান্ত, দিনের নীরব ছায়া,
ঘড়ির কাঁটা হেসে যেন হারায় বিমল মায়া।
ফাইলের ভাঁজে ঘুমিয়ে থাকে অসমাপ্ত শত স্বপ্ন,
ধুলোর পর্দায় ঢাকা পড়ে সম্ভাবনার নেই যত্ন।
ভেতরের মানুষ চায় আলো, চায় কিছু হতে,
অলস মন বাঁধে এমন শেখায় থেমে যেতে।
জানালার কাঁচে আটকে থাকে অর্ধেক আলো-গল্প,
অবহেলায় জন্ম নেয় ধীর সময়ের সংকল্প।
ফলটা কিন্তু আসে শেষে, সময় নেয় হিসাব,
সংস্থা আর নিজের ক্ষতি, দেখলে নেয় যে জবাব।
অভ্যাস যখন গেঁথে যায়, বদলানো তা কঠিন,
ফাঁকির পথে হাঁটতে গিয়ে হারায় স্বপ্নের সুদিন।
পথ যদিও সামনে খোলা, চাই শুধু জাগরণ,
নিজের মাঝে প্রশ্ন জাগাও, কী আমার অর্জন?
দায়িত্বকে ভালোবেসে বাড়াও কাজের মান,
সততার আলোয় বীজ বুনলে, পাবে প্রতিদান।
অজুহাতের ঢেউয়ে ভাসে কাজের প্রতিদিন,
অমনোযোগী চোখে কাটায়- সে তো দায়িত্বহীন।
তোষামোদের হাসির ভেতর সত্য যায় ঢেকে,
তৈলমর্দনের কালি লাগে বিবেক কি আর দেখে?
কাজের লাগে বিরক্তি, মাথায় বড় বোঝা,
দায় এড়ানোর ভেলকি খেলে-কেমন আজব ওঝা।
কাজকে ভাবে বোঝা শুধু, ক্লান্তি তার নাম,
মুখে কাজের ফুলঝুরি, বাস্তবে নেই দাম।
দেখানো কাজে ভাব যে কত-চলে বাহারি সাজ,
যুক্তির পর যুক্তি যেন ফাঁকির শেষ আওয়াজ।
অপচয়ের অন্ধকারে সময় যায় হারিয়ে,
নিজ স্বার্থের টানাপোড়েন জীবন রাখে জড়িয়ে।
সংস্থা নয়, মালিক নয়, ফাঁকিটা আসলে নিজের,
অলসতার জালে বন্দি হারায় শ্রেষ্ঠ সেই সময়ের।
অভিজ্ঞতার ঝুলি শূন্য, বাড়ে না বিচক্ষণতা,
বাস্তব জ্ঞান অধরা রয়, বাড়ে শুধুই অক্ষমতা।
সময়কে দিয়ে ফাঁকি, নিজেই হই রিক্ত,
জ্ঞানের আলোয় পথ না চিনে, হই আঁধারে সিক্ত।
বিবেকের আয়নায় দেখো তুমি অর্জিত কত ধন?
নিজের ফাঁকির বিনিময়ে, কী পেল তোমার মন?
দায়সারা দায়িত্ব যেন হালকা মনের ছায়া,
সততার আলো হারায় যেন অভ্যাসেরই মায়া।
মনটা জেগে যদি ভাঙে ভেতরেরই ঘুম,
কর্মে ফাঁকির আয়না ভেঙে আসবে রঙিন ফাগুন।
কাজ জানি না, কাজ বুঝি না-অজুহাতের ঢাল,
ফাঁকির পথে হেঁটে যেন হারায় দিনের কাল।
কাজ এড়িয়ে দূরে থাকো, করো শুধু ছল,
নিজের হাতে গড়ছো তুমি ব্যর্থতারই ফল।
অফিসের কথা যদি লাগে তিতা মনে কষ্ট,
মনে করবে তুমি এখন নেতিবাচক নষ্ট।
শিখতে হলে নিতে হবে সত্যের কঠিন স্বাদ,
সমালোচনার আঘাতেই হয় উন্নতি নিখাদ।
কর্মফাঁকি দিয়ে কভু মেলে না সার্থকতা,
সময় গেলে বুঝবে তখন জীবনের ব্যর্থতা।
দায়িত্বকে আপন করে বদলাও নিজের গীত,
পরিশ্রমের পথেই লুকায় সফলতার জিত।
প্রতিরোধের প্রথম ধাপ-নিজেকে নিজে জানা,
প্রতিদিনের কাজে খুঁজো, কী তোমার অজানা?
সুশৃঙ্খলের পথে হাঁটো, আসবে সোনালি দিন,
কর্মে ফাঁকির আয়না ভেঙে, বাজাও কাজের বীণ।