কলমে: শিরিনা আক্তার
প্রিয়,
গতকাল জাহান ভাইয়ের হাতে পেলাম তোমার চিঠিটা।
জানলাম— তুমি আছো যুদ্ধের ময়দানে, দেশের ডাকে প্রাণপণে লড়ছো।
চিঠিটা বুকের কাছে চেপে রেখেছিলাম কিছুদিন,
তারপর রাজাকারদের ভয়ে ছিঁড়ে ফেলেছি নিঃশব্দে—
কারণ তারা তোমাকে ধরার আশায়
আমাদের বাড়ির চারপাশে পাহারা দেয় সবসময়।
তুমি লিখেছো—
বাংলাদেশকে ছিনিয়ে আনবেই,
জয়ী হয়েই তবে ফিরবে আমার কাছে,
হবে আমার গর্ব, আমার বীর স্বামী।
আমি পথ চেয়ে বসে আছি—
কবে দেশ হবে স্বাধীন,
আর কবে তুমি ফিরবে বিজয়ের হাসি নিয়ে?
শুনছি চারদিকে আগুন, ধ্বংস, আতঙ্ক—
পাকসেনারা ধরে নিয়ে যাচ্ছে
অসংখ্য ঘরের মা-বোনদের…
জানো, খুব ভয় হয় আমার।
১৪ই জুলাই বাবার বাড়িতে এসেছি।
২১শে জুলাই জন্ম নিল আমাদের বাবু সোনা।
তোমার আড়াই বছরের ছেলে
হাতে ছোট্ট পতাকা নিয়ে সারাদিন বলে— “জয় বাংলা!”
তার সেই ডাক শুনে রাজাকাররা ধমক দেয়,
আব্বা তাড়াতাড়ি তার মুখ চেপে ধরে।
তারা হুমকি দেয়—
“তোমার জামাই এলে ধরিয়ে দেব,
তোমাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেব।”
ভয়ে বুক কাঁপে আমার—
দুইটা ছোট বাচ্চা, নিঃসহায় আমি…
তবু প্রতিরাতে আল্লাহর কাছে হাত তুলে বলি—
দেশ স্বাধীন কইরা, সুস্থ দেহে,
তাড়াতাড়ি ফিরে আসো তুমি।
আমি অপেক্ষায় আছি…
ইতি,
তোমার
কদবানু আলেয়া।
একাত্তরের যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর কাছে
এক প্রতীক্ষারত স্ত্রীর হৃদয়ভরা পত্র অবলম্বনে।